শীতকাল উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপমাত্রা কমলে রক্তনালিগুলি সঙ্কুচিত হয়, শারীরিক পরিশ্রম কমে যায় এবং খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে, এর ফলেই অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাহলে কি শীতকালে রক্তচাপ আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করা উচিত?
2
6
ঠান্ডার কারণে রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়ে যায়, ফলে হৃদযন্ত্রকে রক্ত পাম্প করতে বেশি চাপ নিতে হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ বাড়ে। রেডিওলজিস্ট ডা. দেবেন্দ্র সিং যাদব জানিয়েছেন, ঠান্ডা পড়লেই অনেক রোগী অনুভব করেন তাঁদের রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা না হলে এই বাড়তি চাপ হৃদযন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপে কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না।
3
6
চিকিৎসকের আলাদা নির্দেশ না থাকলে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের দিনে এক থেকে দু’বার রক্তচাপ মাপাই যথেষ্ট। ডা. যাদবের মতে, সকালে জলখাবার ও ওষুধ খাওয়ার আগে এবং সন্ধ্যায় আবার একবার মাপলে রক্তচাপের দৈনিক ওঠানামা বোঝা যায়। তবে প্রতিদিন একই সময়ে মাপা খুব জরুরি, তাতেই তুলনা নির্ভরযোগ্য হয় এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
4
6
সঠিক ফল পেতে হলে নিয়ম মেনে রক্তচাপ মাপা জরুরি। মাপার সময় চেয়ারে সোজা হয়ে বসে পা মেঝেতে রাখুন, পিঠে ভর দিন এবং অন্তত পাঁচ মিনিট শান্তভাবে বসে থাকুন। স্বয়ংক্রিয় ব্লাড প্রেসার মেশিন ব্যবহার করাই ভাল।
যে হাতে রক্তচাপ মাপবেন, সেটি হৃদপিণ্ডের সমান উচ্চতায় রাখুন এবং কাফের মাপ যেন ঠিক হয়। রক্তচাপ মাপার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ধূমপান, ক্যাফেইন গ্রহণ বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা জরুরি।
5
6
দিনে তিনবারের বেশি রক্তচাপ মাপলে অনেক সময় বিভ্রান্তিকর ফল আসতে পারে। ডা. যাদব সতর্ক করে বলেন, প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তির হাতে ম্যানুয়াল যন্ত্রে রক্তচাপ মাপলে ভুল রিডিং পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও মাথা ঘোরা, বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
6
6
শীতকালে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। ঘরের ভিতরে হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে। ঠান্ডা এড়াতে গরম পোশাক পরা জরুরি। পাশাপাশি নুন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া দরকার, কারণ এগুলি রক্তচাপ বাড়ায়। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, বই পড়া বা পছন্দের কোনও কাজেও সময় দিতে পারেন।