হার্ট অ্যাটাকের আগে চোখে দেখা দেয় নীরব সংকেত! ভুলেও অবহেলা করবেন না উচ্চ কোলেস্টেরলের এই লক্ষণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ জুলাই ২০২৬ ১৪ : ১৩
শেয়ার করুন
1
10
কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া এমন একটি সমস্যা, যা অনেক সময় কোনও ধরনের ব্যথা বা অসুস্থতা ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতকও বলা হয়।
2
10
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে গেলে তা ধীরে ধীরে রক্তনালির ভিতরে জমতে শুরু করে। এর ফলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং একসময় হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে চোখে দেখা দেওয়া কয়েকটি পরিবর্তন এই সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে।
3
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের পাতার উপর বা চোখের চারপাশে হলুদ বা হালকা কমলা রঙের ছোট ছোট নরম দাগ দেখা গেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এই দাগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় জ্যানথেলাজমা বলা হয়।
4
10
এটি মূলত চর্বি জমে তৈরি হয়। যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তাঁদের অনেকেরই এই ধরনের দাগ দেখা যায়। যদিও সবার ক্ষেত্রে এটি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ নয়, তবুও এমন পরিবর্তন দেখা দিলে অবশ্যই রক্তে কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
5
10
আরও একটি লক্ষণ হতে পারে চোখের কালো মণির চারপাশে সাদা বা ধূসর রঙের একটি বলয় তৈরি হওয়া। বয়স বেশি হলে এটি অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই দেখা যায়।
6
10
কম বয়সে যদি এমন বলয় তৈরি হয়, তাহলে তা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
7
10
উচ্চ কোলেস্টেরলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এটি বছরের পর বছর কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করতে পারে। ধীরে ধীরে রক্তনালির ভিতরে চর্বির স্তর জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়। একসময় হৃদযন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছতে না পারলে হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র চোখের লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও জরুরি।
8
10
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, বাদাম ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, মিষ্টি এবং সফট ড্রিঙ্ক যতটা সম্ভব কম খান। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
9
10
যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো বিশেষভাবে জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও খেতে হতে পারে।
10
10
মনে রাখবেন, চোখে হলুদ দাগ বা সাদা বলয় দেখা মানেই যে আপনার কোলেস্টেরল বেড়েছে, এমন নয়। তবে এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই এমন কোনও পরিবর্তন চোখে পড়লে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো পরীক্ষা ও জীবনযাত্রায় কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনতে পারলে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।