আর লজ্জা নয়, পাকা চুলেই লুকিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধের মহৌষধি...
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২২ : ৪৫
শেয়ার করুন
1
5
পাকা চুল লজ্জার নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক সুরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। জাপানের বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে চুল ধূসর হওয়া শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে বাদ দিচ্ছে, যাতে টিউমার তৈরি না হয়। এই প্রক্রিয়া বিশেষ করে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে রুখে দেয়।
2
5
চুল ও ত্বকের রঙ তৈরি হয় মেলানোসাইট নামের কোষ থেকে, যা স্টেম সেল থেকে তৈরি হয়। এই স্টেম সেলগুলো চুলের ফলিকলে থাকে এবং রঙ তৈরির জন্য নিয়মিত পুনরুৎপাদন করে। কিন্তু যখন এই স্টেম সেলের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শরীর এগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে পাকা চুল তৈরি করে।
3
5
যখন ডিএনএর উভয় স্ট্র্যান্ড ভেঙে যায়, তখন কোষগুলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় (সেনেসেন্স-কাপল্ড ডিফারেনশিয়েশন) রূপান্তরিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া p53-p21 সিগন্যাল পথ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে রঙ উৎপাদন বন্ধ হয়ে চুল পাকা হয়।
4
5
আবার UVB রশ্মি বা ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী রাসায়নিক (DMBA) এলে একই কোষ ভিন্নভাবে আচরণ করে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো মরে না এবং নিজেদের কপি করতে থাকে, যা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই প্রক্রিয়ায় SCF নামক সাইটোকাইন কোষগুলিকে ক্ষতি সত্ত্বেও টিকিয়ে রাখে।
5
5
গবেষকরা বলছেন, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দু’ধরনের পথ অনুসরণ করতে পারে—একটি ক্যান্সার প্রতিরোধী, অন্যটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পাকা চুল আসলে শরীরের একটি সতর্ক সংকেত এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে এই গবেষণা মানুষের ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও বয়সজনিত পরিবর্তন বোঝার নতুন পথ দেখাতে পারে।