দামী ধাতুর কথা ভাবলে আমাদের সোনা এবং প্ল্যাটিনামের কথাই মাথায় আসে। কিন্তু এই জনপ্রিয় ধাতুগুলি ছাড়াও, আরও বেশ কিছু মৌল রয়েছে যা এতটাই দুর্লভ এবং মূল্যবান যা কল্পনারও অতীত। এই মৌলগুলি কেবল দুষ্প্রাপ্যতার কারণেই ব্যয়বহুল নয়, বরং সেগুলির বৈজ্ঞানিক, শিল্পগত এবং এমনকি ভবিষ্যতের প্রয়োগের কারণেও মূল্যবান। চলুন বিশ্বের ছয়টি সবচেয়ে মূল্যবান মৌল সম্পর্কে জানি, যেগুলো সোনা ও প্ল্যাটিনামের চেয়েও দুর্লভ।
2
6
রোডিয়াম প্ল্যাটিনাম গোষ্ঠীর একটি ধাতু হলেও এটি বিরল ও দামও বেশি। এটি প্রধানত গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে ব্যবহৃত হয়। এটি ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করে। এর রূপালী-সাদা ঔজ্জ্বল্যের কারণে এটি বিলাসবহুল গয়নার ক্ষেত্রে একটি জনপ্রিয়। এর দুষ্প্রাপ্যতাই এটিকে এত মূল্যবান করে তুলেছে। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের অন্যতম বিরল একটি মৌল। রোডিয়ামের বার্ষিক উত্তোলন মাত্র কয়েক টন। রোডিয়ামের দাম প্রায়শই সোনার দামের কয়েকগুণ। এর ক্ষয়রোধী ক্ষমতা এবং অনন্য বৈশিষ্ট্য এটিকে কেবল বিলাসিতার জন্যই নয়, নানা শিল্পেও এটিকে অমূল্য করে তুলেছে।
3
6
স্ক্যান্ডিয়াম একটি পরিচিত নাম না হলেও, মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে এর প্রয়োগের কারণে এটি অত্যন্ত মূল্যবান। এই রূপালী-সাদা ধাতুটির ওজন অবিশ্বাস্যভাবে হালকা হলেও এটি বেশ শক্তিশালী। যার ফলে এটি যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান এবং এমনকি ক্রীড়া সরঞ্জামগুলিতে ব্যবহৃত উন্নত সংকর ধাতু তৈরির জন্য আদর্শ। মজার বিষয়, এটি দুর্লভ। তাই ইউরেনিয়ামের মতো অন্যান্য ধাতু খননের উপজাত হিসেবে এটি খুব অল্প পরিমাণে নিষ্কাশন করা হয়। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর মাত্র ১৫-২০ টন স্ক্যান্ডিয়াম উৎপাদিত হয়।
4
6
ক্যালিফোর্নিয়াম মানুষের তৈরি করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং অসাধারণ মৌলগুলির মধ্যে অন্যতম। সোনা ও প্ল্যাটিনামের মতো এটি পৃথিবীর ভূত্বকে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না। এই মৌলটি পারমাণবিক চুল্লিতে একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এক গ্রাম ক্যালিফোর্নিয়ামের দাম শত শত কোটি টাকা হতে পারে। যা এটিকে পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান পদার্থে পরিণত করেছে। এটি পারমাণবিক চুল্লি চালু করতে এবং ভূগর্ভস্থ তেল ও সোনার মজুদ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এর তেজস্ক্রিয়তা এবং উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর মাত্র কয়েক মাইক্রোগ্রাম ক্যালিফোর্নিয়াম উৎপাদিত হয়।
5
6
প্লুটোনিয়াম মনুষ্যসৃষ্ট মৌল যা পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল পদার্থগুলির মধ্যে অন্যতম। পারমাণবিক অস্ত্র এবং চুল্লিতে এর ভূমিকা অনেক। এটি একটি প্রধান জ্বালানি উৎস যা ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করতে পারে। প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের বাইরে, প্লুটোনিয়াম মহাকাশ অভিযানেও শক্তি জোগায়। প্লুটোনিয়াম উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বিশেষ পারমাণবিক চুল্লির প্রয়োজন হয়। যার ফলে এটি দুর্লভ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
6
6
বিজ্ঞানীদের মতে, ইরিডিয়াম কোটি কোটি বছর আগে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছে। এই ধাতুটিও প্ল্যাটিনাম গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধী। দুর্লভ ও স্থায়িত্বের কারণে এটিকে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। এর দাম প্রায়শই সোনার চেয়েও বেশি হয়। ইরিডিয়াম সূক্ষ্ম যন্ত্র, গভীর সমুদ্রের কেবল এবং এমনকি মহাকাশ প্রযুক্তিতেও ব্যবহৃত হয়।