সম্মতির ভিত্তিতে কিশোর-কিশোরীদের যৌন সম্পর্কে আর বাধা রইলো না? নতুন আইন নিয়ে ভাবতে বলল প্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩ : ৪২
শেয়ার করুন
1
9
শিশুদের যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যে পকসো আইন প্রণীত হয়েছিল, সেই আইনই আজ বহু ক্ষেত্রে তরুণদের পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক ভাঙার অস্ত্র হয়ে উঠছে, এমনই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬, বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি এন কে সিং-এর বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে কেন্দ্র সরকারকে পকসো আইনে তথাকথিত ‘রোমিও–জুলিয়েট ক্লজ’ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। এই ক্লজের উদ্দেশ্য হবে প্রকৃত কিশোর-কিশোরী সম্পর্ককে আইনের কঠোর শাস্তিমূলক কাঠামোর বাইরে রাখা। ছবি: সংগৃহীত
2
9
আদালত বলেছে, বারবার দেখা যাচ্ছে পকসো আইনকে পরিবারগুলি ব্যবহার করছে তরুণদের প্রেমের সম্পর্ক ভাঙতে, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বা সামাজিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে মামলা ঠুকে দিতে। এই প্রবণতা শুধু আইনকে বিকৃত করছে না, ন্যায়বিচারের ধারণাকেই উল্টে দিচ্ছে। এই কারণেই রায়ের কপি কেন্দ্রীয় আইন সচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যাতে আইনের অপব্যবহার রুখতে সম্ভাব্য আইন সংশোধন এবং মিথ্যা বা প্রতিহিংসামূলক মামলার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
3
9
এই রায় আসে উত্তরপ্রদেশ সরকারের করা এক আপিলের প্রেক্ষিতে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২৯ মে একটি নির্দেশে বলেছিল, পকসো আইনের সব মামলায় তদন্তের শুরুতেই ভুক্তভোগীর বয়স নির্ধারণের জন্য বাধ্যতামূলক মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে এবং সেই রিপোর্ট শুনানির সময় আদালতে পেশ করতে হবে। ওই নির্দেশ এসেছিল একটি বেল মামলার সূত্রে, যেখানে শেষ পর্যন্ত মেডিকেল রিপোর্টে ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ বছরের বেশি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত জামিন পেয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
4
9
সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় দেওয়া জামিন বহাল রাখলেও, হাইকোর্টের সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশ বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, বয়স নির্ধারণ বিচারপর্বের বিষয়, বেল পর্যায়ের নয়। বেল শুনানির সময় আদালত নথিপত্র দেখে একটি প্রাথমিক ধারণা নিতে পারে, কিন্তু সেই নথির সত্যতা যাচাই বা মেডিকেল পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া তার এক্তিয়ারভুক্ত নয়। ছবি: সংগৃহীত
5
9
রায়ে বিচারপতি করোল ব্যাখ্যা করে বলেন, হাইকোর্ট সাংবিধানিক আদালত হলেও এই ক্ষেত্রে তারা সাংবিধানিক ক্ষমতা নয়, বরং একটি আইনসিদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। সাংবিধানিক ক্ষমতা সরাসরি সংবিধান থেকে আসে এবং তা স্বতন্ত্র, কিন্তু আইনসিদ্ধ ক্ষমতা নির্দিষ্ট আইনের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেই সীমা অতিক্রম করলে তা আইনত অবৈধ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
6
9
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ধারা ৯৪ অনুযায়ী বয়স নির্ধারণে প্রথমে নথিভিত্তিক প্রমাণ ব্যবহার করতে হবে। কেবলমাত্র সেই নথি অনুপস্থিত থাকলেই মেডিকেল পরীক্ষার আশ্রয় নেওয়া যায়। ফলে মেডিকেল বয়স নির্ধারণ কোনওভাবেই নিয়মিত বা বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হতে পারে না। ছবি: সংগৃহীত
7
9
যৌন নির্যাতনের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার না করেও সুপ্রিম কোর্ট সংবেদনশীল ভাষায় বলেছে, মেডিকেল প্রমাণ হল শরীরের কণ্ঠস্বর যখন ভাষা থেমে যায়, তখন শরীর কথা বলে। তবে সেই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ও পরিসরকে আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখতে হবে, যাতে মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়। ছবি: সংগৃহীত
8
9
পকসো আইনের অপব্যবহার নিয়ে আদালত আরও একটি গভীর সামাজিক বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করেছে। একদিকে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার বহু শিশু ভয়, দারিদ্র্য ও সামাজিক লজ্জার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। এই বৈষম্যকেই আদালত ন্যায়বিচারের উল্টো ছবি বলে বর্ণনা করেছে। আদালতের মতে, এই প্রবণতা শুধু পকসো আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ৪৯৮এ আইপিসি ও পণপ্রথা বিরোধী আইনের অপব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
9
9
রায়ের শেষে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, কেবল আইন সংশোধন বা আদালতের নির্দেশ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক সাহস তবেই শিশু সুরক্ষার আইন প্রকৃত অর্থে দুর্বলদের ঢাল হয়ে উঠবে, ক্ষমতাবানদের হাতিয়ার নয়। ছবি: সংগৃহীত