২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর থেকেই সোনার দামে সংশোধন দেখা যাচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম উঠেছিল ১,৮০,৭৭৯ টাকায়।
2
10
বর্তমানে সেই দাম কমে প্রায় ১,৪২,৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ছবি। কমেক্সে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,০১৫ ডলার, যা সর্বোচ্চ ৫,৬২৬.৮০ ডলারের তুলনায় অনেকটাই কম।
3
10
তবে এই পতনই কি সোনা কেনার সেরা সুযোগ? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামে ফের বড় উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
4
10
আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা জেপি মর্গ্যানের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলার এবং ২০২৭ সালের শেষে ৬,৩০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
5
10
এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ডলার-টাকার বিনিময় হার অনুযায়ী, ভারতে ২০২৭ সালের শেষে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২.১৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য হিসাব, নিশ্চিত মূল্য নয়।
6
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বন্ডের সুদে সংশোধন এবং ডলারের অবস্থান দুর্বল হলে সোনার দাম বাড়তে পারে। তাঁর অনুমান, ২০২৬ সালের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪,৬০০ ডলার এবং এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রামের দাম ১.৬০ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে।
7
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলও সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আমেরিকায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে পারে।
8
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমলে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৭ সালের জুনের শেষে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৭০–১.৭২ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে।
9
10
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা কেনার প্রবণতা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের চাহিদাও দামের পক্ষে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়া এবং মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সোনার দাম নিশ্চিতভাবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছবে বা ২ লক্ষ টাকা ছাড়াবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই বিনিয়োগের আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সুদের হার এবং নিজের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা জরুরি।