ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমল ৩৮%, আশার আলো দেখাচ্ছে ব্যক্তিগত টিকা! কীভাবে কাজ করে এই চিকিৎসা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ : ০০
শেয়ার করুন
1
10
ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে তৈরি এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিন। সম্প্রতি তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই টিকা ও একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধের যৌথ প্রয়োগে মেলানোমা বা এক ধরনের ত্বকের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ৩৮ শতাংশ কমেছে বলে জানা গিয়েছে।
2
10
শুধু তাই নয়, ক্যানসার ফিরে আসা অথবা রোগীর মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকিও কমেছে ৪২ শতাংশ। গবেষণার এই ফলাফল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
3
10
এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে Moderna এবং Merck। এর পরীক্ষামূলক নাম intismeran autogene। এটি সাধারণ প্রতিষেধক টিকার মতো নয়। বরং রোগীর শরীরে থাকা টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় এই টিকা। অর্থাৎ, প্রত্যেক রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেই চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।
4
10
ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়াই এই টিকার মূল উদ্দেশ্য। টিকাটি রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তনের তথ্য শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিশেষ কোষ, বিশেষত টি-সেল, ওই বৈশিষ্ট্যযুক্ত ক্যানসার কোষগুলিকে চিনতে ও আক্রমণ করতে শেখে।
5
10
এই চিকিৎসায় টিকার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে Keytruda নামের একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধ। এই ওষুধ ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ করার পথে থাকা একটি বাধা সরাতে সাহায্য করে। ফলে দুই চিকিৎসার সম্মিলিত প্রয়োগে ক্যানসার কোষকে আক্রমণ করার ক্ষমতা বাড়তে পারে।
6
10
তৃতীয় পর্যায়ের এই পরীক্ষায় ১১০০-র বেশি রোগী অংশ নিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলানোমার দৃশ্যমান অংশ সরিয়ে ফেলার পর রোগীদের একাংশকে টিকা ও Keytruda দেওয়া হয়। অন্য অংশের রোগীরা শুধু Keytruda পান।
7
10
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গিয়েছে, যৌথ চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের মধ্যে দু’বছর পর ৮২.২ শতাংশ ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, শুধু Keytruda পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০ শতাংশ। গবেষণায় যৌথ চিকিৎসায় ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ এবং দূরবর্তী অঙ্গে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ৩৮ শতাংশ কমার ইঙ্গিত মিলেছে।
8
10
এখনই অবশ্য এই টিকাকে সব ধরনের ক্যানসারের প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও চিকিৎসাটির অনুমোদন ও বৃহত্তর ক্ষেত্রে কার্যকারিতা যাচাইয়ের আরও ধাপ রয়েছে। সংস্থাগুলি আমেরিকায় অনুমোদনের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালে চিকিৎসাটি বাজারে আসার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
9
10
বর্তমানে কিডনি, মূত্রথলি ও ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
10
10
ব্যক্তিগত ক্যানসার ভ্যাকসিন ভবিষ্যতে চিকিৎসার নতুন দিশা দেখাতে পারে। তবে এটি আপাতত গবেষণাধীন চিকিৎসা। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসা বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।