যখনই কোনও ট্রেন দ্রুতগতিতে ছুটে যায়, তখন তার চাকাগুলো ধাতুর তৈরি দু'টি সরু পাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই রেল-পাতগুলোকে শত শত বা হাজার হাজার টনের ভার বহন করতে হয়। বারবার আঘাত সহ্য করতে হ। চরম আবহাওয়ার মধ্যেও অটল থাকতে হয়। তাহলে প্রশ্ন হল, রেললাইনের পাতের জন্য কেন ইস্পাতকেই মুখ্য উপাদান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়?
2
6
এর সহজ উত্তর হল ইস্পাতের শক্তি ও স্থায়িত্ব। ইস্পাত দ্রুত ক্ষয়ে না গিয়েই বিপুল পরিমাণ ভার বহন করতে সক্ষম। একই লাইনের ওপর দিয়ে বারবার ট্রেন চলাচলের ফলে যে ক্রমাগত চাপ বা ধকল তৈরি হয়, তা সহ্য করার মতো যথেষ্ট দৃঢ়তাও এর রয়েছে। রেলের ইঞ্জিনিয়াররা এমন এক বিশেষ ধরনের ইস্পাত ব্যবহার করেন যা এই ভারী ও বারবার প্রযুক্ত হওয়া বল বা চাপ সামলানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
3
6
তবে আরও একটি কারণ রয়েছে। ইস্পাতকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আকার দেওয়া ও প্রস্তুত করা সম্ভব। রেল-পাতের ওপরের অংশটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে ট্রেনের চাকার জন্য একটি মসৃণ ও সুষম তল পাওয়া যায়। অন্যদিকে এর সামগ্রিক গঠন নীচের স্লিপার ও ব্যালাস্টের (পাথরকুচির স্তর) মাধ্যমে ভারকে নিরাপদে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে।
4
6
আধুনিক রেল ব্যবস্থায় ইস্পাতের দীর্ঘ রেল-পাত ব্যবহার করা হয়, যা প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে ঝালাই করে জোড়া লাগানো থাকে। এর ফলে তৈরি হয় ‘কন্টিনিউয়াসলি ওয়েল্ডেড রেল’ বা অবিচ্ছিন্ন ঝালাইযুক্ত রেললাইন। এতে লাইনের সংযোগস্থলের সংখ্যা কমে যায় এবং ট্রেন চলাচল অনেক বেশি মসৃণ হয়। ‘নেটওয়ার্ক রেল’-এর তথ্যমতে, তাদের রেল নেটওয়ার্কের সিংহভাগই এই অবিচ্ছিন্ন ঝালাইযুক্ত রেললাইন দিয়ে গঠিত।
5
6
এই সমস্যা এড়াতে রেল প্রকৌশলীরা রেল-পাতের টান বা প্রসারণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং স্লিপার ও ব্যালাস্ট-সহ পুরো ট্র্যাকের কাঠামো ব্যবহার করে সেগুলোকে যথাস্থানে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখেন। কোনও কোনও স্থানে রেল-পাতের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে সাদা রঙও করা হয়। কারণ হালকা রঙের তল কম তাপ শোষণ করে।
6
6
তাই এবার যখন কোনও রেললাইন দেখবেন, তখন মনে রাখবেন- সাধারণ চেহারার ওই ইস্পাতের পাতগুলো অত্যন্ত নিখুঁত প্রকৌশল কৌশলে তৈরি। উচ্চ গতিতে বিপুল ভার বহনের পাশাপাশি শক্তি, নমনীয়তা, নির্ভুল গঠন এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন সহ্য করার ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।