গণেশ চতুর্থী শুরু আর শেষ কখন? পুজোর শুভক্ষণ, মূর্তিস্থাপন আর পুজোর নিয়ম জেনে নিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ : ৪১
শেয়ার করুন
1
12
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার দেশজুড়ে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী। মুম্বই থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে এবং পুজোমণ্ডপে হবে গণপতি বাপ্পার আগমন। গণেশ চতুর্থীর পুজোর শুভক্ষণ, আচার এবং মূর্তি স্থাপনের নিয়ম জেনে নিন
2
12
জ্যোতিষীর মতে, ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথির অপরাহ্ণে জন্ম হয়েছিল ভগবান গণেশের। ২০২৬ সালে চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে৷
3
12
গণেশ মূর্তি স্থাপন এবং পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। যেহেতু গণেশের জন্মের সঙ্গে অপরাহ্ণকাল জড়িত, তাই এই সময়টিকেই বিশেষভাবে পুজোর উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। তবে শহরভেদে পুজোর শুভক্ষণ কিছুটা আলাদা।
4
12
গণেশ চতুর্থীর দিন সকাল ৭টা ৫৭ মিনিট থেকে ৯টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে রাহুকাল। তাই এই সময়ে গণেশ মূর্তি স্থাপন বা বড় কোনও পুজোর আচার করা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
5
12
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলা উচিত। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সময় বলে ধরা হয়।
6
12
বাড়িতে গণেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খুব বড় মূর্তি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রায় ৭ থেকে ১০ ইঞ্চি উচ্চতার গণেশমূর্তি রাখা যেতে পারে। প্রচলিত মাপে যা প্রায় ৫ থেকে ১২ অঙ্গুল।
7
12
ছোট মূর্তি হলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষে নিয়মিতভাবে পুজো করা সহজ হয়। পাশাপাশি বড় মূর্তির মতো অতিরিক্ত আচার বা পুরোহিতের সাহায্যের প্রয়োজনও সাধারণত হয় না।
8
12
মূর্তি রাখার জন্য বাড়ির উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণ সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। বিকল্প হিসেবে পূর্ব দিকেও গণেশমূর্তি স্থাপন করা যায়।
9
12
মূর্তিটি একটি উঁচু কাঠের পিঁড়ি বা চৌকির উপর লাল অথবা হলুদ কাপড় পেতে রাখতে হবে। যিনি পুজো করবেন, তাঁর মুখ উত্তর অথবা পূর্ব দিকে থাকা উচিত।
10
12
গণেশমূর্তির ডান দিকে একটি পবিত্র কলস রাখতে হবে। পুজোর প্রয়োজনীয় আচার সম্পূর্ণ করতে এই কলস গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।প্রতিদিন গণেশকে নিবেদন করা যেতে পারে লাল গোলাপ, দূর্বা ঘাস, মোদক। বিশ্বাস করা হয়, এই সমস্ত উপকরণ দিয়ে ভক্তিভরে পুজো করলে গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ পাওয়া যায় এবং মনের ইচ্ছা পূরণ হয়।
11
12
পুজোর সময় গণেশের বিশেষ মন্ত্র জপ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন— “ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ”। এছাড়াও পাঠ করা যায়—“বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভা।নির্বিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদা॥”
12
12
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্ত্র জপ করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি ও শুভশক্তির আগমন ঘটে। গণেশ চতুর্থীর দিনে তাই শুভক্ষণ মেনে বাপ্পার প্রতিষ্ঠা ও ভক্তিভরে পুজো করলে সিদ্ধিদাতার কৃপা লাভ করা যায় বলে মনে করেন ভক্তরা।