হার্বাল ‘টি’ আসলে ভাঁওতা? চা বিক্রি নিয়ে বিস্ফোরক নির্দেশ খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার
নিজস্ব সংবাদদাতা
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭ : ২১
শেয়ার করুন
1
8
খাদ্যপণ্য বাজারে ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তি দূর করতে বুধবার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্ট বার্তা জারি করেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনও পানীয়কে “চা” (Tea) হিসেবে লেবেল করা যাবে শুধুমাত্র তখনই, যদি সেটি Camellia sinensis উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন হয়। এই উদ্ভিদ থেকেই ঐতিহ্যগতভাবে ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে চা উৎপাদিত হয়ে আসছে। ছবি: প্রতীকী
2
8
FSSAI-র এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে প্রচলিত হার্বাল বা উদ্ভিজ্জ ইনফিউশনকে ‘চা’ নামে বিক্রি করার প্রবণতা বন্ধ করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, বিভিন্ন ফুল, শিকড়, বীজ বা অন্যান্য উদ্ভিদের পাতা দিয়ে তৈরি পানীয়কে ‘হার্বাল টি’, ‘ফ্লোরাল টি’ বা অনুরূপ নামে বাজারজাত করা হলেও, সেগুলি প্রকৃত অর্থে চা নয় এবং আইনগতভাবে সেগুলিকে ‘চা’ বলা বিভ্রান্তিকর। ছবি: প্রতীকী
3
8
নির্দেশে বলা হয়েছে, চা বলতে ঐতিহ্যগতভাবে বোঝায় Camellia sinensis গাছের পাতা থেকে প্রস্তুত পানীয়। ভারতের বিভিন্ন বড় ও ছোট চা-বাগানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গাছের চাষ হয়ে আসছে। চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাধারণত গাছের দুটি কচি পাতা এবং একটি মুকুল না ফোটা কুঁড়ি তোলা হয় যা চা শিল্পের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা। পরে এই পাতাগুলি শুকানো, গুঁড়ো করা বা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালো চা, সবুজ চা বা অন্যান্য প্রকারের চায়ে রূপান্তরিত হয়। FSSAI-র মতে, এই নির্দিষ্ট উদ্ভিদগত উৎসই আইন অনুযায়ী চা হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার মূল শর্ত। ছবি: প্রতীকী
4
8
নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানিয়েছে, Camellia sinensis ছাড়া অন্য কোনও উদ্ভিদ থেকে তৈরি পানীয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ‘চা’ শব্দের ব্যবহার আইন লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের লেবেলিংকে খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬ এবং তার অধীনে প্রণীত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী ‘মিসব্র্যান্ডিং’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ছবি: প্রতীকী
5
8
তবে FSSAI এটাও স্পষ্ট করেছে যে, Camellia sinensis থেকে তৈরি নয় এমন পানীয় বা ইনফিউশন বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। সেগুলি বৈধভাবেই বাজারে থাকতে পারে, কিন্তু সঠিক শ্রেণিবিভাগের অধীনে। উপাদানের প্রকৃতি অনুযায়ী এই ধরনের পণ্যকে ‘প্রোপ্রাইটারি ফুড’ হিসেবে বা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (নন-স্পেসিফায়েড ফুড অ্যান্ড ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস অনুমোদন) রেগুলেশনস, ২০১৭’-এর আওতায় আনতে হবে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই এগুলিকে ‘চা’ নামে বিপণন বা লেবেল করা যাবে না।ছবি: প্রতীকী
6
8
এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে FSSAI দেশের সমস্ত খাদ্য ব্যবসায়ী সংস্থা উৎপাদক, প্যাকেজিংকারী, বিপণনকারী, আমদানিকারক, বিক্রেতা এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে কড়াভাবে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যেসব পণ্য Camellia sinensis থেকে উৎপন্ন নয়, সেগুলির ক্ষেত্রে ‘চা’ শব্দের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।ছবি: প্রতীকী
7
8
একই সঙ্গে, সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ফুড সেফটি কমিশনারদের পাশাপাশি FSSAI-র আঞ্চলিক পরিচালকদের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে প্রয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাজার নজরদারি জোরদার করা এবং নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ছবি: প্রতীকী
8
8
FSSAI-র এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ভোক্তাদের কাছে স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সারা দেশে খাদ্য লেবেলিংয়ের ক্ষেত্রে তা বজায় রাখা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, স্পষ্ট সংজ্ঞা ও সঠিক লেবেলিং শুধুমাত্র ক্রেতার অধিকার রক্ষা করে না, বরং চা শিল্পের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মানকেও সুরক্ষিত রাখে।ছবি: প্রতীকী