মদ নয়, এই ৫ চেনা খাবার নীরবে বাড়ায় ফ্যাটি লিভার! রোজ খেলেই লিভারের বারোটা বেজে শরীরে ছড়াবে ক্যানসার
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৯ জুলাই ২০২৬ ১৯ : ১৪
শেয়ার করুন
1
14
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, খাবার হজমে সাহায্য করা, পুষ্টি সঞ্চয় করা, রক্ত পরিশোধন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরি-এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে লিভার। তাই এই অঙ্গটি সুস্থ রাখা খুবই জরুরি।
2
14
অনেকেই মনে করেন, শুধু অতিরিক্ত মদ্যপান করলেই লিভারের ক্ষতি হয়। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই সত্যি নয়।
3
14
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ ভারতীয় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। আর এই রোগের হাত ধরে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে লিভার সিরোসিসের মতো মারণ ব্যাধি।
4
14
চিকিৎসকদের মতে, এমন কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে লিভারে চর্বি জমতে পারে, প্রদাহ হতে পারে এবং দীর্ঘদিনে ফ্যাটি লিভার, এমনকী লিভারের গুরুতর সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
5
14
চিকিৎসকেদের মতে, প্রত্যেক লিভারেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চর্বি থাকে। সেই চর্বি মাত্রাতিরিক্ত জমে গেলে, তখন তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফ্যাটি লিভারের অসুখ বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
6
14
একথা ঠিক যে লিভারের ক্ষতি এড়াতে চাইলে মদ্যপান না করাই শ্রেয়। তবে সঙ্গে রোজের খাদ্যাতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে ৫ খাবার। রইল তারই হদিশ-
7
14
১. অতিরিক্ত চিনি রয়েছে এমন খাবারঃ কোল্ড ড্রিঙ্ক, সফট ড্রিঙ্ক, প্যাকেটজাত ফলের রস, কেক, পেস্ট্রি, কুকিজ, আইসক্রিম, ক্যান্ডি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিতে প্রচুর চিনি থাকে। শরীর প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করতে না পারলে তা চর্বিতে পরিণত হয়। এই অতিরিক্ত চর্বির একটি অংশ লিভারে জমতে শুরু করে। ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এর ঝুঁকি বাড়ে।
8
14
২. ভাজাভুজি ও ফাস্ট ফুডঃ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার, পিজ়া, ফ্রাইড চিকেন, চিপস বা অন্যান্য ডিপ-ফ্রাই করা খাবারে ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এগুলো নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ে, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। তাই এই ধরনের খাবার যত কম খাওয়া যায়, ততই ভাল।
9
14
৩. প্রসেসড মাংসঃ সসেজ, সালামি, বেকন, হট ডগের মতো প্রসেসড মাংসে প্রচুর লবণ, প্রিজ়ারভেটিভ এবং ক্ষতিকর ফ্যাট থাকে। এগুলো নিয়মিত খেলে শুধু হৃদরোগ নয়, লিভারের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই চিকিৎসকেরা এই ধরনের খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন।
10
14
৪. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারঃ প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার, প্যাকেটের স্যুপ এবং অতিরিক্ত নুন দেওয়া খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখতে পারে এবং দীর্ঘদিনে লিভারের কার্যকারিতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
11
14
৫. ময়দা ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটঃ সাদা পাউরুটি, ময়দার রুটি, বিস্কুট, কেক, পাস্তা এবং নানা ধরনের বেকারির খাবারে ফাইবার কম থাকে। এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত বেশি খেলে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং লিভারে চর্বি জমার আশঙ্কা বাড়ে।
12
14
লিভার ভাল রাখতে কী করবেন? প্রতিদিন তাজা শাকসবজি ও ফল খান, গোটা শস্য, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি রাখুন, পর্যাপ্ত জল পান করুন, নিয়মিত হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, অতিরিক্ত তেল, চিনি ও লবণ এড়িয়ে চলুন, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।
13
14
মনে রাখবেন, এই খাবারগুলো একদিন বা মাঝেমধ্যে খেলেই লিভার নষ্ট হয়ে যায় না। সমস্যা হয় যখন দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে এগুলো খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। তাই লিভার সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
14
14
যদি আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা থাকে, তাহলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।