আধার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিশাল পরিকাঠামোয় ভুল বা জাল তথ্য ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
2
13
নকল আধার ব্যবহার করে বেআইনি কাজের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এই সমস্যার মোকাবিলায় এবার নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা। নাম ভারত এবিস।
3
13
ABIS-এর পুরো নাম Automated Biometric Identification System। এটি একটি ওপেন-সোর্স, মাল্টি-মোডেল বায়োমেট্রিক প্ল্যাটফর্ম।
4
13
এই ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ, চোখের মণি বা আইরিস এবং মুখের বৈশিষ্ট্য—এই তিন ধরনের বায়োমেট্রিক তথ্য একত্রিত করে মাত্র ১৩.৫ কিলোবাইটের একটি ডিজিটাল টেমপ্লেট তৈরি করা হয়।
5
13
পরে সেই টেমপ্লেট পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে আগে থেকেই কোনও পরিচয় বা আইডি রয়েছে কি না।
6
13
Bharat ABIS-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ইন্টেলিজেন্ট ডেটা-প্রসেসিং ব্যবস্থা। একাধিক সার্ভারের মধ্যে কাজের চাপ ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে একই সময়ে বিপুল সংখ্যক রেকর্ড যাচাই করা সম্ভব হয়। ফলে কয়েক কোটি মানুষের তথ্য পরীক্ষা করার সময়ও সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে হ্যাং হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
7
13
এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তাঁদের জন্য, যাঁদের আঙুলের ছাপ সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষ কিংবা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম করা শ্রমজীবী মানুষের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় বায়োমেট্রিক যাচাইকরণে সমস্যা হয়।
8
13
রেশন বা পেনশনের মতো পরিষেবা পাওয়ার সময় আঙুলের ছাপ না মেলার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। Bharat ABIS-এ একাধিক বায়োমেট্রিক তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।
9
13
এই প্রকল্পে UIDAI-এর ছয়জন গবেষকের অবদান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আইআইটি হায়দরাবাদের এক গবেষকও রয়েছেন। পাশাপাশি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট বায়োমেট্রিক্স গবেষক অনিল জৈনও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
10
13
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, Bharat ABIS-কে প্রথমে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ পরিচয়বিহীন ডেটাসেটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর ২ লক্ষ ২০ হাজার আধার রেকর্ডের গ্যালারিতে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। পরে প্রায় ২ কোটি রেকর্ডের উপর পরীক্ষাতেও সিস্টেমটির গতি ও নির্ভুলতা যাচাই করা হয়েছে।
11
13
পরীক্ষায় একটি আসল পরিচয়কে ভুল করে নকল হিসেবে চিহ্নিত করার হার ছিল প্রায় ০.১ শতাংশ। অন্যদিকে, নকল পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার ঝুঁকি ছিল প্রায় ০.০৫ শতাংশ।
12
13
শুধু ভারত নয়, এই ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি বিশ্বের বিভিন্ন ছোট দেশও ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে যেসব দেশের ব্যয়বহুল বায়োমেট্রিক পরিকাঠামো কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বিনামূল্যের এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।
13
13
তবে ভারতে Bharat ABIS আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে নকল আধার শনাক্তকরণ ও বায়োমেট্রিক যাচাইকরণে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার।