প্রযুক্তি জগতের অন্যতম কিং ইলন মাস্ক সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেছেন, খুব শিগগিরই পৃথিবীতে মানুষের তুলনায় রোবটের সংখ্যা বেশি হয়ে যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং হিউম্যানয়েড রোবটের দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য নতুন করে ভবিষ্যৎ সমাজ ও অর্থনীতির দিকনির্দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
2
10
মাস্কের মতে, আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে রোবট শুধু শিল্পকারখানায় নয়, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে উপস্থিত থাকবে। একে রোখা যাবে না।
3
10
বর্তমানে উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং এমনকি পরিষেবা খাতেও রোবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। টেসলা, অ্যামাজন, গুগল-সহ বহু বড় প্রযুক্তি সংস্থা রোবট ও এআই-চালিত সিস্টেমে বিপুল বিনিয়োগ করছে।
4
10
ইলন মাস্কের দাবি, ভবিষ্যতে রোবটরা মানুষের মতোই কাজ করতে পারবে। সেখানে হাঁটা, কথা বলা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এমনকি জটিল কাজ সম্পন্ন করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হবে।
5
10
তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই উদ্বেগজনক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ব্যাপক হারে রোবট ব্যবহারের ফলে বহু ঐতিহ্যবাহী চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে।
6
10
কারখানা শ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী, এমনকি অফিসভিত্তিক অনেক কাজও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যেতে পারে।এর ফলে আয় বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
7
10
অন্যদিকে, আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, রোবট ও এআই নতুন ধরনের চাকরিরও সৃষ্টি করবে। যেমন রোবট মেইনটেন্যান্স, এআই ট্রেনিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল প্রযুক্তি-ভিত্তিক পেশা। প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব পুরনো কাজের জায়গা বদলে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
8
10
ইলন মাস্ক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন—নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণ। যদি রোবট ও এআই ব্যবস্থার ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে তা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
9
10
কে সিদ্ধান্ত নেবে, কতটা ক্ষমতা রোবটের হাতে থাকবে, এবং মানুষের ভূমিকা কোথায় সীমাবদ্ধ হবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পাওয়া এখনই জরুরি। সেখানে মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
10
10
মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা বেশি হওয়ার ভবিষ্যৎ কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পনা নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বাস্তবতা। এই পরিবর্তনকে ভয় নয়, বরং প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল নীতির মাধ্যমে গ্রহণ করাই হবে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।