বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাগুলির পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পথে। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এই জলবায়ুগত ঘটনা তৈরি হয়।
2
13
আবহাওয়াবিদদের মতে, আসন্ন এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
3
13
এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর দেখা যায়। তবে সব এল নিনো সমান শক্তিশালী হয় না।
4
13
যখন প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্য অংশে সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে, তখন বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের পরিবর্তন ঘটে এবং তার প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়। এবার বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এল নিনোর তীব্রতা অতীতের অনেক ঘটনার তুলনায় বেশি হতে পারে।
5
13
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি বর্ষার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত শক্তিশালী এল নিনোর সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হয়ে পড়ে।
6
13
এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধান, ডাল, তেলবীজসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন কমতে পারে, যা খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণ হতে পারে।
7
13
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অংশে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে।
8
13
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া থাকতে পারে।
9
13
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এল নিনোর প্রভাব এখন আগের তুলনায় আরও বেশি গুরুতর হতে পারে। কারণ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে।
10
13
এই অতিরিক্ত উষ্ণতার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
11
13
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং মৎস্য সম্পদের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি, জল সংকট এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
12
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও প্রশাসনকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে জল সংরক্ষণ, খরা মোকাবিলা পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও তাপপ্রবাহ, জল সংকট এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
13
13
আসন্ন শক্তিশালী এল নিনো শুধু একটি আবহাওয়াগত ঘটনা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাই এর গতিবিধির উপর নজর রাখছেন বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকরা।