৬ জুলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। এদিন পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে বেশি দূরত্বে পৌঁছাবে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাফেলিয়ন । অনেকেই মনে করেন, সূর্য থেকে দূরে চলে গেলে পৃথিবীতে গরম কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকলেও উত্তর গোলার্ধে তখন পূর্ণ গ্রীষ্মকালই বিরাজ করে।
2
11
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবী প্রতি বছর প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ৯ মিনিটে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এই অতিরিক্ত প্রায় ৬ ঘণ্টার কারণেই প্রতি চার বছরে একটি লিপ ইয়ার হয় এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।
3
11
পৃথিবীর কক্ষপথ পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কিছুটা উপবৃত্তাকার বা এলিপটিক্যাল। তাই বছরের একটি সময় পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে, আবার ছয় মাস পরে সবচেয়ে দূরে চলে যায়।
4
11
সূর্যের সবচেয়ে কাছের অবস্থাকে বলা হয় পেরিহেলিয়ন, যা সাধারণত প্রতি বছরের ৪ জানুয়ারির কাছাকাছি ঘটে। তখন পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব থাকে প্রায় ১৪৭.০৯ মিলিয়ন কিলোমিটার। অন্যদিকে ৬ জুলাইয়ের কাছাকাছি অ্যাফেলিয়নের সময় এই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫২.১ মিলিয়ন কিলোমিটার।
5
11
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, সূর্য থেকে এত দূরে থাকলেও উত্তর গোলার্ধে গরম কেন কমে না? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষীয় হেলে থাকার মধ্যে।
6
11
ঋতু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব নয়, বরং এই অক্ষীয় হেলনই প্রধান কারণ। জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে সূর্যের আলো সরাসরি এই অঞ্চলে পড়ে এবং দিনের দৈর্ঘ্যও বেশি হয়। এর ফলেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং গ্রীষ্মকাল অনুভূত হয়।
7
11
বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তের সময় সূর্যের রশ্মি উত্তর গোলার্ধের মধ্য অক্ষাংশে শীতকালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি তাপ সরবরাহ করে। তাই পৃথিবী সূর্য থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও সেই প্রভাব ঋতুর উপর খুব একটা পড়ে না।
8
11
নাসার মতে, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্ম দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৩ দিন বেশি দীর্ঘ হয়। এর ফলে সূর্য উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগকে আরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত করার সুযোগ পায়।
9
11
অ্যাফেলিয়নের সময় সূর্যকে আকাশে সামান্য ছোট দেখায়। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই সময় সূর্যের আপাত আকার প্রায় ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশ ছোট মনে হয়। তবে এই পার্থক্য খালি চোখে বোঝা সম্ভব নয়। বরং বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া কখনওই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়, কারণ তা চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
10
11
এছাড়াও অ্যাফেলিয়নের সময় পৃথিবীতে পৌঁছানো সূর্যালোকের তীব্রতা পেরিহেলিয়নের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম থাকে। কিন্তু পৃথিবীর অক্ষীয় হেলনের কারণে এই সামান্য পার্থক্য ঋতু পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে না।
11
11
অর্থাৎ, ৬ জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে বেশি দূরে থাকলেও গরম কমবে না। কারণ ঋতুর নিয়ন্ত্রণ করে পৃথিবীর অক্ষের হেলন, সূর্য থেকে দূরত্ব নয়। অ্যাফেলিয়ন তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হলেও, এর প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়া বা গ্রীষ্মের তাপমাত্রায় তেমনভাবে অনুভূত হয় না।