জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার।
2
13
এবার থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র-সহ কোনও রাজনৈতিক পদাধিকারী আর জন্ম বা মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না।
3
13
এই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে ন্যস্ত করা হবে। স্বাস্থ্য ভবন শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাবে কোন কোন সরকারি আধিকারিক এই ক্ষমতা পাবেন।
4
13
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, Registration of Births and Deaths Act অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের তথ্য যাচাইয়ের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
5
13
সরকারের ভাষায়, এটি একটি ‘Purification Exercise’। ইতিমধ্যেই ইস্যু হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে।
6
13
রাজ্য সরকারের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) চলাকালীন একাধিক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরির অভিযোগ সামনে এসেছে। নকশালবাড়ি, মাটিগাড়া, খাতরা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলছে।
7
13
প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়ে ১১ হাজারেরও বেশি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সন্ধান মিলেছে বলে সূত্রের দাবি। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও জাল নথি অনলাইনে আপলোড হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
8
13
এই পরিস্থিতিতে গোটা জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে সেন্ট্রালাইজ করা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য এবার কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড হবে এবং প্রতিটি আবেদন বহুস্তরীয় যাচাইয়ের আওতায় আনা হবে।
9
13
জেলাশাসকের নেতৃত্বে প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে তদন্ত হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য বা জাল নথি তৈরি, অনুমোদন বা আপলোডের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ— দু’ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।
10
13
প্রশাসনের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের হয়রানি নয়, বরং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা।
11
13
বৈধ নথিধারীদের কোনও সমস্যা হবে না বলেও সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদনকারী শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও এই নতুন ব্যবস্থা কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
12
13
মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে উচ্চ আধিকারিকরা এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
13
13
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। বৈঠকে রাজ্যজুড়ে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হয়।