পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছচ্ছে এবং বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করছে, এমনটাই অভিযোগ তুলেছে সিপিআই(এম)। মানুষকে সঠিক ইতিহাস ও তথ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে তারা 'মানুষের দরবারে, মানুষের ইতিহাস' নামে এক বিশেষ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে।
2
7
প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন সিপিআই(এম)-এর কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার। এদিনের সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য বাম নেতৃত্ব।
3
7
আগামী ২১শে জুন, অর্থাৎ বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে ২৪শে জুন পর্যন্ত টানা চারদিন ধরে এই কর্মসূচি চলবে। জানা গিয়েছে, বাগবাজার, বেহালা, নেতাজিনগর, মেটিয়াবুরুজ এবং গার্ডেনরিচ সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৪০টি সভার আয়োজন করা হয়েছে, যা পরিচালনা করবেন ৪০ জন সঞ্চালক ও বিশিষ্টজনেরা।
4
7
এই সভাগুলিতে দেশভাগের প্রকৃত ইতিহাস, দেশভাগ ও কমিউনিস্ট পার্টি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি, গবেষকদের তথ্য, সমসাময়িক বইপত্র এবং প্রবীণ মানুষদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি ছোট পুস্তিকা প্রকাশ করে তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
5
7
সাংবাদিক সম্মেলনে কল্লোল মজুমদার অভিযোগ করেন, বিজেপি নিজেদের প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্যই ইতিহাস বিকৃতি করছে। যুক্তি ও তথ্যের সাহায্যে মানুষের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরাটাই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি বিজেপি ও আরএসএস-কে দেশের গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর বলেও দাবি করেন।
6
7
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল লুটে খেয়েছে এবং মানুষের মধ্যে সেই ক্ষোভের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের এই বাড়বাড়ন্তের জন্য তিনি বিজেপিকেই দায়ী করেছেন। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে সাধারণ মানুষের ডিম ছোঁড়ার ঘটনাকে তিনি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মানলেও, একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
7
7
তাঁর মতে, ক্ষোভ সঙ্গত হলেও বিচার আইনি পথেই হওয়া উচিত। কারণ, এই পদ্ধতিতে বিচারের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তা আগামী দিনে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো বিপদ ডেকে আনতে পারে।