এক সময়ের লাল দুর্গ পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরা আগেই হাতছাড়া হয়েছিল, আর মাস কয়েক আগে কেরালাও চলে গেছে বিরোধীদের ঝুলিতে। দেশজুড়ে এমন এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দলটাকে কীভাবে ফের ঘুরে দাঁড় করানো যায়, তা নিয়ে এখন কার্যত দিশেহারা সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব।
2
8
হারানো রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়ার চাবিকাঠি খুঁজতে সম্প্রতি দিল্লিতে দু’দিনের জন্য জরুরি পলিটব্যুরো বৈঠকে বসেছিলেন লাল শিবিরের শীর্ষ নেতারা। সেখানে দীর্ঘ চুলচেরা বিশ্লেষণের পর একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনীতির চেনা ছক ভেঙে এবার নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন জি’ বা তরুণ পড়ুয়াদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দল।
3
8
ঠিক যেভাবে নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে হাতিয়ার করে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে তরুণদের মন জয়ে ময়দানে নেমেছে কংগ্রেস, সিপিএম-ও এখন প্রায় একই পথ ধরে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা পুনরুদ্ধারের নীল নকশা আঁকছে।
4
8
দলীয় সূত্রে খবর, কংগ্রেসের ঢঙে তরুণদের দৈনন্দিন ক্ষোভ ও সমস্যাগুলোকে সামনে রেখেই সর্বাত্মক সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বাম নেতৃত্ব। কংগ্রেস যেমন দেশের প্রায় একশোটি শহরে পড়ুয়াদের নিয়ে ধারাবাহিক সমাবেশ নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিপিএম-ও এখন তরুণ সমাজের সেই আবেগ আর ক্ষোভকেই নিজেদের পালে হাওয়া দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখতে চাইছে।
5
8
বৈঠকের ফাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি স্পষ্ট জানান, দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের অটল লড়াইয়ের মুখেই বিজেপি সরকার কার্যত পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের ওপর থেকে মামলাও প্রত্যাহার করেছে। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কোনও রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না, আর এই ক্ষোভের হাত ধরেই দেশের রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তনের হাওয়া উঠছে।
6
8
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম নেতৃত্বের এহেন অবস্থান আসলে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রচলিত ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির বাইরে এসে এবার সরাসরি নতুন প্রজন্মের আবেগকে ছুঁতে চাইছে দল।
7
8
তরুণদের মুখাপেক্ষী হয়ে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে উঠে এসেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও।
8
8
বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘাতের আঁচ যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা স্পষ্ট। স্পষ্টতই, ছাত্র এবং যুবসমাজের কাঁধে ভর করেই নিজেদের ঐতিহাসিক সংকট কাটিয়ে ওঠার শেষ বাজি ধরতে চাইছে আলিমুদ্দিন থেকে এ কে জি ভবন।