নবম শ্রেণির সামাজ বিজ্ঞানের নতুন পাঠ্যপুস্তকে 'জরুরি অবস্থা' বিষয়ক একটি অধ্যায় যুক্ত করার এনসিইআরটি-র সিদ্ধান্তকে বৃহস্পতিবার সমর্থন জানাল বিজেপি। এতদিন এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য কংগ্রেসের প্রতিবাদরকে দায়ী করেছে।
2
7
বিজেপি মনে করে, দেশের গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অন্ধকারময় সময়কালটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজন। যাতে ওই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনও না ঘটে তাই এই পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য।
3
7
এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তক 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড' -এ প্রথমবারের মতো এই অধ্য়ায়টি যুক্ত করা হয়েছে। এতে জরুরি অবস্থাকে ভারতের গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময়কালে অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা হয়েছিল।
4
7
বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ভারতের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক যাত্রাপথের 'সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেস প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত হেনেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন।
5
7
একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "ক্ষমতার লিপ্সায় ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেস জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। প্রতিটি সাংবিধানিক সংস্থার ওপর আঘাত হানা হয়েছিল। সংসদ, আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ ও তাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে কিশোর কুমারের মতো শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে তাঁদের গান সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ ধরনের দমনমূলক কর্মকাণ্ডই তখন চালানো হয়েছিল।"
6
7
পুনাওয়ালা বলেছেন, "জরুরি অবস্থা বিষয়ক একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার এনসিইআরটি-র সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সেই সময়কাল সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাই, গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে জরুরি অবস্থার ওপর একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের তা পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিইআরটি। কারণ ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টিকে আমাদের মনে রাখতে হবে ও স্মরণ করতে হবে, কিন্তু এর পুনরাবৃত্তি যেন কখনও না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।"
7
7
কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, "যদি আপনারা সংবিধানের রক্ষক হন এবং এর ধ্বংসের সমর্থক না হন, তবে আপনাদেরই সবার আগে এতে সম্মতি জানানো উচিত। আসুন আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিই। কারণ যারা তা করে না, তাদের সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তির সম্ভবনা থাকে।"