ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা যত দ্রুত ধরা পড়ে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। কিন্তু সমস্যার বিষয় হল, ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় এতটাই সাধারণ হয় যে মানুষ সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না।
2
10
ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া বা দীর্ঘদিনের কাশির মতো সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ এগুলো কখনও কখনও ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কিছু ছোট পরিবর্তনের দিকে নজর রাখলে ক্যানসার অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
3
10
অকারণে ওজন কমে যাওয়া: আপনি যদি কোনও ডায়েট না করেন, নিয়মিত ব্যায়াম না করেন, তবুও হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করে, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। কয়েক মাসে ৪-৫ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস বা খাদ্যনালির ক্যানসারের শুরুতে এই লক্ষণ দেখা যায়।
4
10
দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা: সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু যদি তিন থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকে, বা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
5
10
সব সময় ক্লান্ত লাগা: অনেকেই ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে ক্লান্তি অনুভব করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি না কমে, কাজ করার এনার্জি না থাকে বা সব সময় অবসন্ন লাগে, তাহলে তা শরীরের ভেতরে কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু ধরনের ক্যানসারে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি খুব সাধারণ একটি উপসর্গ।
6
10
মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তনঃ হঠাৎ করে বারবার ডায়রিয়া হওয়া, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা প্রস্রাবের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো অন্ত্র, কোলন বা মূত্রথলির ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
7
10
শরীরের কোথাও গাঁট বা ফোলাঃ ঘাড়, বাহুমূল, স্তন বা শরীরের অন্য কোনও অংশে নতুন গাঁট বা ফোলা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সব গাঁট ক্যানসার নয়, তবে কোনও গাঁট যদি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
8
10
অস্বাভাবিক রক্তপাত বা না শুকানো ঘাঃ মুখের ঘা দীর্ঘদিন না শুকানো, মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া বা অস্বাভাবিক রক্তপাত- এসবই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
9
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপরের সব লক্ষণই যে ক্যানসারের কারণে হবে, এমন নয়। অনেক সময় অন্য সাধারণ রোগেও এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কোনও উপসর্গ যদি দু থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
10
10
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা এবং শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখাই ক্যানসার থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মনে রাখবেন, ক্যানসারকে হারানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা।