রাজকীয় ডিনার থেকে সাধারণ খাবার, টাইটানিকের যাত্রীরা কী খেতেন? বিলাসবহুল জাহাজের ঐতিহাসিক মেনু আজও চমকে দেয়
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩ আগস্ট ২০২৬ ১৪ : ৩২
শেয়ার করুন
1
12
টাইটানিক শুধু বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজগুলির একটি নয়, বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবেও আজও সমান জনপ্রিয়। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় এই জাহাজ।
2
12
টাইটানিকের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এই জাহাজটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ আজও শেষ হয়নি।
3
12
জাহাজের কেবিন, সিঁড়ি, সাজসজ্জার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য কী ধরনের খাবার পরিবেশন করা হতো, তা নিয়েও কৌতূহলের প্রবল। ইতিহাসবিদদের মতে, টাইটানিকের খাবারের মান সে সময়ের অনেক নামী হোটেলের সমান ছিল।
4
12
টাইটানিকের প্রথম শ্রেণির যাত্রীরা সবচেয়ে বিলাসবহুল পরিষেবা পেতেন। তাঁদের জন্য প্রতিদিন বহু পদের খাবার তৈরি করতেন দক্ষ রাঁধুনিরা।
5
12
দুর্ঘটনার আগের রাতে পরিবেশিত শেষ ডিনারের মেনুতে ছিল অয়েস্টার, কনসোমে স্যুপ, ক্রিম স্যুপ, পোচ করা স্যামন মাছ, ফিলে মিনিওঁ, রোস্ট ডাক, মটনের পদ, বিফ, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ফরাসি স্টাইলে তৈরি নানা পদ। খাবারের শেষে পরিবেশন করা হয়েছিল পুডিং, আইসক্রিম, চিজ, ফল এবং কফি। পুরো মেনু দেখে মনে হয়, যেন কোনও পাঁচতারা হোটেলের ভোজসভা চলছে।
6
12
দ্বিতীয় শ্রেণির খাবারও ছিল রেস্তোরাঁর মানের।অনেকেই মনে করেন, শুধু প্রথম শ্রেণির যাত্রীরাই ভালো খাবার পেতেন। কিন্তু বাস্তবে দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত মানের। সে সময় অনেক মধ্যবিত্ত মানুষ বাড়িতেও এমন খাবার খাওয়ার সুযোগ পেতেন না।
7
12
ব্রেকফাস্টে থাকত ডিম, বেকন, সসেজ, গ্রিলড অক্স কিডনি, স্মোকড হেরিং, রুটি, মাখন, জ্যাম, চা ও কফি। দুপুরে পরিবেশন করা হতো রোস্ট বিফ, চিকেন কারি, সেদ্ধ আলু, সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট। রাতের খাবারেও থাকত সুস্বাদু মাংস, মাছ, পেস্ট্রি, পুডিং ও চিজ। তাই ইতিহাসবিদরা বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির খাবারের মানও সে সময়ের অনেক ভাল রেস্তোরাঁর সমতুল্য ছিল।
8
12
তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীরাও খালি পেটে থাকতেন না। টাইটানিকের তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় নতুন জীবন শুরু করতে যাওয়া অভিবাসী। তাঁদের খাবার প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির মতো বিলাসবহুল না হলেও যথেষ্ট পুষ্টিকর এবং পরিমাণে ভাল ছিল।
9
12
সকালে পরিবেশন করা হত ওটমিলের পোরিজ, হ্যাম, ডিম, রুটি, মাখন ও মার্মালেড। দুপুরে থাকত রোস্ট বিফ, সেদ্ধ আলু, সুইট কর্ন এবং বিখ্যাত প্লাম পুডিং। রাতে দেওয়া হত ঠান্ডা মাংস, চিজ, আচাড়, রুটি, বিস্কুট ও চা। সে সময়ের অন্য অনেক জাহাজে তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের নিজেদের খাবার সঙ্গে আনতে হত। কিন্তু টাইটানিকে টিকিটের টাকার মধ্যেই খাবারের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা ছিল।
10
12
টাইটানিকে প্রায় ২,২০০ জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। তাঁদের জন্য জাহাজে ছিল বিশাল রান্নাঘর, আলাদা বেকারি, মাংস সংরক্ষণের কক্ষ এবং শতাধিক রান্নার কর্মী।
11
12
প্রতিদিন হাজার হাজার রুটি, কেক, পেস্ট্রি এবং নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হতো। সব খাবার যাতে গরম ও টাটকা অবস্থায় পরিবেশন করা যায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল।
12
12
আজও টাইটানিকের আসল মেনু কার্ডগুলি বিভিন্ন জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে।টাইটেনিকের মেনু শুধু খাবারের তালিকা নয়, বরং সেই সময়ের জীবনযাত্রা, বিলাসিতা এবং সমাজের শ্রেণিবিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও বিবেচিত হয়।