মৃত্যু নিয়ে মানুষের কৌতূহল চিরন্তন। অনেকেই বলেন, শেষ সময়ের আগে নাকি মানুষ অদ্ভুত কিছু অনুভব করে যেন শরীর বা মন আগেভাগেই বুঝে ফেলে কী হতে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও নানা জনপ্রিয় লেখায় এই ধারণা বারবার উঠে আসে, যা রহস্য আর ভয়ের আবহ তৈরি করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, মৃত্যুর আগে মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে, সেগুলো আসলে স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এই বিষয়টি বোঝা গেলে ভ্রান্ত ধারণার বদলে বাস্তব সত্যকে জানা সম্ভব।
2
11
মৃত্যুর আগে শরীর ও মস্তিষ্কে একাধিক ধাপে পরিবর্তন শুরু হয়, যা হঠাৎ নয় বরং ধীরে ধীরে ঘটে।
3
11
শেষ কয়েক ঘণ্টা বা দিনে হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তসঞ্চালন ও অক্সিজেনের মাত্রায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়।
4
11
এই শারীরিক পরিবর্তনের ফলে মানুষের চেতনা কমে যেতে পারে এবং ইন্দ্রিয়ের অনুভূতিও বদলে যেতে পারে।
5
11
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এগুলো আসন্ন মৃত্যুর লক্ষণ কোনও রহস্যময় ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ নয়।
6
11
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে মস্তিষ্কে স্বল্প সময়ের জন্য বৈদ্যুতিক সক্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে।
7
11
একই সময়ে মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিকের নিঃসরণ ঘটে, যা স্নায়ুকোষের মধ্যে যোগাযোগে প্রভাব ফেলে।
8
11
এই পরিবর্তনগুলো মূলত অক্সিজেনের অভাব ও চরম শারীরিক চাপের প্রতি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
9
11
এখন পর্যন্ত এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে মানুষ সচেতনভাবে এক ঘণ্টা আগে নিজের মৃত্যু বুঝে ফেলতে পারে।
10
11
কাছাকাছি-মৃত্যু অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে আসা অনেক মানুষ আলো দেখা বা স্মৃতি ভেসে ওঠার কথা বলেন, যা মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনের সঙ্গেই যুক্ত বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
11
11
তাই মৃত্যুর আগে যে “শেষটা কাছে” মনে হয়, তা আসলে শরীর ও মস্তিষ্কের জৈবিক সংকেতের ফল অলৌকিক কোনও পূর্বাভাস নয়।