বর্তমান বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে এক লপ্তে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে গয়না কেনা একপ্রকার মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে।
2
10
বিশেষত বিয়ে, বিয়ে কিংবা উৎসবের মরশুমে সোনা কিনতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে অনেকেরই। এই পরিস্থিতিতে একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়- কিস্তিতে বা ইএমআই দিয়ে কি সোনা কেনা সম্ভব?
3
10
দেশের অধিকাংশ বড় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ব্যাঙ্ক এখন ক্রেতাদের সুবিধার্থে ইএমআই-তে সোনা কেনার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু কীভাবে মিলবে এই সুবিধা?
4
10
সাধারণত তিনটি উপায়ে কিস্তিতে সোনা কেনা যেতে পারে।ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এটি সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পথ। নামী গয়নার দোকানগুলি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় ৩, ৬, ৯ বা ১২ মাসের ইএমআই-এর সুযোগ দেয়। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের কেনাকাটা করা বাধ্যতামূলক।
5
10
জুয়েলারি সংস্থার নিজস্ব স্কিম। বেশ কিছু বড় সোনার দোকান মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা গোল্ড স্কিম চালায়। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার পর, মেয়াদ শেষে সেই জমা মোট অর্থ দিয়ে সোনা কেনা যায়। অনেক সংস্থা এর সঙ্গে আকর্ষনীয় বোনাসও দিয়ে থাকে।
6
10
এতে এক ধাক্কায় অনেকটা টাকা পকেট থেকে বেরিয়ে যায় না। বিয়ের মরশুমে বা উৎসবের মুখে সংসারের বাজেট সামলানো সহজ হয়। তবে সুবিধার পাশাপাশি কিস্তিতে সোনা কেনার কিছু সমস্যার দিকও রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়া ভুল হবে।
7
10
সব ইএমআই কিন্তু 'নো-কস্ট' বা সুদমুক্ত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বার্ষিক ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হতে পারে। প্রসেসিং ফি, জিএসটি এবং অন্যান্য গোপন চার্জ যুক্ত হয়ে গয়নার আসল দাম অনেকটাই বেড়ে যায়।
8
10
কোনও কারণে সময়মতো কিস্তি শোধ করতে না পারলে বিপত্তি। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে কালঘাম ছুটতে পারে। সোনার কেনার আগে পকেটের জোর বুঝে তবেই ইএমআই-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
9
10
সবসময় মাথায় রাখতে হবে, গয়নাটি হলমার্কযুক্ত কিনা। কিস্তি মিলিয়ে মোট কত টাকা পকেট থেকে যাচ্ছে, সেই হিসাবটা কষে নেওয়া জরুরি। জরুরি প্রয়োজনে বা বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে হাতে এককালীন টাকা না থাকলে ইএমআই অবশ্যই একটি ভালো বিকল্প।
10
10
মনে রাখা জরুরি, সুদের হার ও নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করে তবেই সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।