বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫–এর ফলাফল মহাগঠবন্ধন, বিশেষত তেজস্বী যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর জন্য কঠিন আঘাত হয়ে এসেছে। দেখা গেছে, এনডিএ (বিজেপি–জেডিইউ) জোট ১৮৫টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে মহাগঠবন্ধন (আরজেডি–কংগ্রেস–বামদল) মাত্র ৫৪টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মানুষের রায়ে শুধু জোটকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়নি, বরং তাদের পুরো নির্বাচনি প্রচার ও রাজনৈতিক বক্তব্যকেই নাকচ করা হয়েছে। এমনকি তেজস্বী যাদব নিজেও নিজের আসনে পিছিয়ে পড়েছিলেন প্রাথমিক পর্যায়ে, যা এই বিপর্যয়ের গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে।
2
9
আরজেডি এবারে ৫২ জন যাদব প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছিল—যা গতবারের তুলনায় বেশি এবং দলীয় মোট প্রার্থীর (১৪৪) প্রায় ৩৬%। এই সিদ্ধান্ত দলের কোর যাদব ভোটব্যাংককে দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও বিপরীত প্রভাব ফেলেছে।
3
9
জাতপাতের রাজনীতি জোরালো হয়েছে: "যাদব রাজ"–এর পুরনো স্মৃতি ভোটারদের মনে আবারও ফিরে এসেছে। এতে আরজেডির জাতপাতনির্ভর ভাবমূর্তি আরও তীব্র হয়েছে।
4
9
অ-যাদব ভোটারদের দূরে ঠেলে দেওয়া: বিশেষত উচ্চবর্ণ এবং অতিপিছড়া শ্রেণির ভোটাররা এই প্রবণতায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ব্যাপক হারে এনডিএর দিকে ঝুঁকেছে। বিজেপি এই সুযোগে "আরজেডির যাদব রাজ"–বিরোধী প্রচার চালিয়ে মধ্যবিত্ত ও শহুরে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টেনে নিতে সক্ষম হয়েছে।
5
9
আরজেডি-কেন্দ্রিক মনোভাব: আসন ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়, আরজেডি বেশি গুরুত্ব পেয়ে মিত্রদের পাশে সরিয়ে দেয়। তেজস্বী এমনকি জোটের ইশতেহারকেও “তেজস্বীর প্রতিশ্রুতি” নামে প্রচার করেন। পোস্টারে রাহুল গান্ধীর ছবি ছোট করে দেখানোও বিতর্ক তোলে। জোটের ভেতরে ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলায় কার্যকর ভোট স্থানান্তর হয়নি। বিপরীতে এনডিএ ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
6
9
তেজস্বীর প্রচারের মূল ভিত্তি ছিল চাকরি, পেনশন, মদ নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা–এর মতো বড় বড় প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এসব বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে অর্থ জোগাড় হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে—তার কোনও স্পষ্ট রোডম্যাপ তিনি দিতে পারেননি।
7
9
“প্রতি পরিবারে একটি চাকরি” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বারবার তিনি বলেছিলেন পরিকল্পনা “দুই দিনের মধ্যেই” প্রকাশ হবে, কিন্তু তা প্রকাশই হয়নি। ফলে ভোটারদের মনে এই প্রতিশ্রুতিগুলি ‘খালি বুলি’ বলে মনে হয়েছে।
8
9
কিছু এলাকায় মুসলিম ভোট একত্রিত হলেও রাজ্যজুড়ে তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এমনকি যাদবদের একটি অংশও দূরে সরে যায়। তেজস্বীর ওয়াক্ফ বিল প্রয়োগ না করার প্রতিশ্রুতিকে ‘তোষণ’ বলে চিহ্নিত করে বিজেপি ব্যাপক প্রচার চালায়।
9
9
তেজস্বীর দ্বৈত কৌশল—বাবার ‘সামাজিক ন্যায়’ ভাবমূর্তিকে গ্রহণ করা এবং একই সঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ ইমেজ থেকে দূরত্ব রাখা—উল্টো ফল দিয়েছে। পোস্টারে লালুর ছবি ছোট করে রাখা এবং তাঁর অতীতকে আড়াল করার চেষ্টা এনডিএ সহজেই আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেন তেজস্বী তাঁর বাবার ‘পাপ’ লুকোতে চাইছেন।