ভারতের আম রপ্তানি শিল্পে বড়সড় ধাক্কা দিল জাপান। প্রায় দুই দশক পর ভারতীয় আম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে টোকিও। জাপানের অভিযোগ, ভারত থেকে রফতানি হওয়া কিছু আমের চালানে পেস্ট কন্ট্রোল বা কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় গুরুতর গাফিলতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ‘ফ্রুট ফ্লাই’ বা ফলমাছির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়।
2
9
জাপান দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর বায়োসিকিউরিটি নীতি অনুসরণ করে। তারা বিদেশি পোকামাকড় বা রোগজীবাণুর ক্ষেত্রে প্রায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে।
3
9
মাছির মতো আক্রমণাত্মক পোকা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সেই কারণেই ভারতীয় আমের চালানে নির্ধারিত মান বজায় না থাকায় আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।
4
9
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদক দেশ। আলফানসো, কেশর, হিমসাগর, ল্যাংড়া, দশেরি-সহ বিভিন্ন প্রজাতির ভারতীয় আম আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়।
5
9
জাপানেও ভারতীয় আমের একটি নির্দিষ্ট বাজার রয়েছে, বিশেষত প্রবাসী ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু রফতানিকারকদের নয়, আমচাষিদের কাছেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
6
9
রপ্তানিকারকদের একাংশের দাবি, জাপানের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর এবং সামান্য ত্রুটিতেও পুরো চালান বাতিল করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে খাদ্য সুরক্ষা ও পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা জরুরি। রপ্তানির আগে ফল পরীক্ষা, ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট এবং প্যাকেজিং ব্যবস্থায় কড়াকড়ি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
7
9
ভারতের কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে আবার ভারতীয় আমের রপ্তানি চালু করতে। সংশ্লিষ্ট রপ্তানি সংস্থাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে কোনও রকম খামতি না থাকে।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ভারতীয় কৃষিপণ্যের রফতানি ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে গেলে মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি এবং প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও বিশ্বমান বজায় রাখতে হবে। কারণ উন্নত দেশগুলি এখন খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে অনেক বেশি সচেতন এবং কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
9
9
জাপানের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ভারতীয় আম রপ্তানিতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।