সরকারি কর্মচারীদের কাছে ৭ম বেতন কমিশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ এর হাত ধরেই আয়ের কাঠামোতে সবথেকে বড় পরিবর্তনটি এসেছে।
2
8
একজন সরকারি কর্মী মাসের শেষে ঠিক কত টাকা হাতে পাবেন, তা নির্ভর করে বেসিক পে, মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং যাতায়াত ভাতার সঠিক হিসাবের ওপর। অনেকেই জানতে চান যে, আগের কমিশনের তুলনায় বর্তমান নিয়মে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে।
3
8
৭ম বেতন কমিশন বেতনের হিসাব সহজ করার জন্য পে ব্যান্ড প্রথা তুলে দিয়ে পে ম্যাট্রিক্স প্রবর্তন করেছে। তবে বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর।
4
8
মূল বেতনে ঠিক কত টাকা বেড়েছে ? যেকোনও চাকরিজীবীর মাসিক আয়ের মূল ভিত্তি হল তাঁর মূল বেতন। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে সরকারি কর্মচারীদের এন্ট্রি লেভেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল মাত্র ৭০০০ টাকা। কেন্দ্র ৭ম বেতন কমিশনে এই সর্বনিম্ন বেতনের পরিমাণ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে সরাসরি ১৮০০০ টাকা করে দিয়েছে। প্রতি বছর কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা হয়েছে এই কমিশনে।
5
8
মুদ্রাস্ফীতি বা বাজারদরের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়। এআইসিপিআই সূচকের ওপর ভিত্তি করে বছরে দু'বার এই ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়।
6
8
সরকারি কর্মচারীদের পোস্টিং ঠিক কোন শহরে হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে বাড়ি ভাড়া ভাতা বা এইচআরএ প্রদান করা হয়। ৭ম বেতন কমিশন শহরগুলিকে এক্স, ওয়াই এবং জেড এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। শুরুতে এই শহরগুলিতে এইচআরএ এর পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৪ %, ১৬ % এবং ৪ %।
7
8
বাড়ি থেকে অফিসে যাতায়াতের সুবিধার জন্য কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা বা টিএ দেওয়া হয়। ৭ম বেতন কমিশন এই ভাতার পরিমাণেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কর্মচারীদের পে লেভেল এবং শহরের ওপর নির্ভর করে এই ভাতা নির্ধারণ করা হয়।
8
8
বেসিক পে, ডিএ, এইচআরএ এবং টিএ যোগ করলে যে বিরাট অঙ্কের টাকা তৈরি হয়, তাকে মোট বেতন বা গ্রস স্যালারি বলা হয়। কিন্তু হাতে পাওয়া বেতন হিসাব করার জন্য এর থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাটতি বা ডিডাকশন করা হয়। ৭ম বেতন কমিশন অনুযায়ী কর্মচারীর বেসিক পে এবং ডিএ এর মোট যোগফলের ওপর ১০ % টাকা ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং আয়কর কাটা হয়।