বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর এবং শীতের আগমনের মুখে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাড়ে।
2
12
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়েই কেন ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রবণতা বেশি থাকে? এর পিছনে রয়েছে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, বায়ুচাপের পরিবর্তন এবং বাতাসের গতিপথের মতো একাধিক বৈজ্ঞানিক কারণ।
3
12
ঘূর্ণিঝড় তৈরির অন্যতম প্রধান শর্ত হল উষ্ণ সমুদ্রের জল। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
4
12
বর্ষার সময় সূর্যের তাপে বঙ্গোপসাগরের জল যথেষ্ট উষ্ণ থাকে। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরেও সমুদ্রের সেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায় না। ফলে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও ঘূর্ণিঝড় তৈরির মতো পর্যাপ্ত শক্তি সমুদ্র থেকে পাওয়া সম্ভব হয়।
5
12
সমুদ্রের উষ্ণ জল থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প উপরে উঠে যায়। এই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করার সময় তাপশক্তি নির্গত করে। সেই শক্তি ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে।
6
12
কোনও অঞ্চলে বায়ুচাপ কমে গেলে আশপাশের উচ্চচাপযুক্ত এলাকা থেকে বাতাস সেই দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবে এই বাতাস ঘুরতে শুরু করে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়।
7
12
বর্ষার বিদায়ের পর বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বর্ষাকালে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকে।
8
12
এই সময়ে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বাতাসের দিক ও গতির তারতম্য ঘূর্ণিঝড়ের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বর্ষা বিদায়ের পর বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বাতাসের গতিপথ, আর্দ্রতা এবং বায়ুচাপের বিন্যাস ঘূর্ণিঝড় তৈরির পক্ষে অনুকূল হয়ে উঠতে পারে।
9
12
এছাড়া, উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের গতির পার্থক্য বা ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। এই পার্থক্য খুব বেশি হলে ঘূর্ণিঝড়ের মেঘপুঞ্জ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তার শক্তি বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু অনুকূল পরিবেশে বাতাসের এই পার্থক্য কম থাকলে ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায়।
10
12
বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানও এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জল, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডল একসঙ্গে কাজ করলে নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশের বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতেও থাকে।
11
12
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু সমুদ্রের জল উষ্ণ থাকলেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না। বায়ুমণ্ডলের একাধিক অনুকূল পরিস্থিতি একসঙ্গে তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
12
12
তাই অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকলেও প্রতি বছর একই সংখ্যায় বা একই তীব্রতার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখাই এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।