অস্বস্তিকর সত্য প্রকাশ্যে বলতে কখনও পিছপা হননি জিনত আমান। সে ব্যক্তিগত হোক কিংবা বলিউড সংক্রান্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাজ, নিজের যুগের এবং গোটা হিন্দি ছবির রোম্যান্স-ভাবনাকেই নতুন করে প্রশ্ন করতে ভালবাসেন তিনি। সাম্প্রতিক এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সেই কাজটাই করলেন প্রবীণ এই আইকন অভিনেত্রী। নিজেরই পুরনো দুই ছবি ‘দোস্তানা’ (১৯৮০) ও ‘তিসরি আঁখ’ (১৯৮২) দেখে জিনত ফিরে তাকালেন বলিউডে নায়িকার অবস্থান, প্রেমের নামে হেনস্থা আর হয়রানির সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখার দিকে।

জিনত লিখেছেন, সম্প্রতি দর্শক আবার দেখেছেন কীভাবে ‘দোস্তানা’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত চরিত্রটি তাঁর চরিত্রটিকে “শ্লীলতাহানি” করে, এমনকী ‘যৌন হেনস্থা’-র মতো আচরণও করে! অথচ ঠিক পরের ছবিতেই ছবিটা উল্টো। জিনতের কথায়,“...আপনারা আমাকে দেখবেন ‘তিসরি আঁখ’-তে ধরমজির চরিত্রের প্রতি আক্রমণাত্মক হতে!” পুরুষশাসিত ইন্ডাস্ট্রিতে সেই সময় নায়িকার হাতে ক্ষমতার রাশ ধরিয়ে দেওয়ার এমন উদাহরণ ছিল বিরলই।

‘তিসরি আঁখ’ ছবিতে জিনত অভিনীত 'বরখা' চরিত্রটি প্রেমের সেই তাড়া দেয়, যা সাধারণত নায়কদের জন্যই সংরক্ষিত থাকত। জিনত নিজেই লিখেছেন,“এখানে ধরমজির ‘অশোক’ ভীষণ সরল, চাপের মুখে পড়া একজন মানুষ। আর আমার ‘বরখা’ একেবারেই বেপরোয়া, অনুপযুক্ত এবং আক্রমণাত্মক। সে নির্লজ্জভাবে অশোকের পিছনে পড়ে থাকে, আর অশোক অনিচ্ছুক, বিরক্ত এক আকাঙ্ক্ষার বস্তু।” অনেকের চোখে এই দৃশ্য ‘ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস’ ধারণাকে উল্টে দিয়ে মজার মনে হতে পারে। কিন্তু আজকের চোখে দাঁড়িয়ে জিনত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই আচরণও তাঁর সমর্থনযোগ্য নয়।

অভিনেত্রীর সাফ কথা, ‘বরখা’র আগ্রাসী ব্যবহার তিনি যেমন আজ সমর্থন করতে পারেন না, তেমনই ‘দোস্তানা’-র ইন্সপেক্টর বিজয়ের হয়রানিমূলক আচরণও নয়। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রোম্যান্সে ঠাট্টা-তামাশা থাকতেই পারে, কিন্তু বলিউড বারবার সেই সীমা ছাপিয়ে গিয়েছে আর সেখানেই জন্ম নিয়েছে অসংবেদনশীলতা, এমনকী হেনস্থা।

নিজের কেরিয়ারের দিকেও দায় এড়াননি জিনাত আমান। অকপটে স্বীকার করেছেন, তাঁর অভিনীত ছবিগুলিও সেই সময়ের বলিউডের মতোই সুস্থ, স্থিতিশীল ভালবাসার বদলে ‘অবসেশন’ আর ‘পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়ে সারাক্ষণ অবাস্তব কল্পনা’-কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনিও দর্শকদের কাছে রোম্যান্সের এক “হাস্যকর ও বিকৃত ধারণা” পৌঁছে দেওয়ার অংশীদার ছিলেন।

পোস্টের শেষটা আরও স্পষ্ট, আরও দৃঢ়। জিনত লেখেন, “সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতি নিয়ে কোনও আপস হতে পারে না। আর সম্মান তো  দু’দিক থেকেই আসতে হবে। বিশ্বাস করুন, আমি এটা কঠিন পথেই শিখেছি।”

নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘দ্য রয়্যালস’-এ সাম্প্রতিক উপস্থিতির পর জিনত আমান যেন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনি শুধু নস্টালজিয়ার মুখ নন। অতীতের ভুল স্বীকার করে, সিনেমার ভবিষ্যৎকে আরও সংবেদনশীল ও সম্মানজনক করে তোলার দাবিও তাঁর কণ্ঠে সমান জোরালো।