জেমস ক্যামেরনের ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ জনপ্রিয় অবতার ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবি। বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি ও অ্যাকশন ঘরানার সঙ্গে ভালবাসার পরশ ছড়ানো এই মহাকাব্যিক ছবি বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘অবতার’ ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক, দুই বক্স অফিসেই রেকর্ড সাফল্য পেয়েছিল। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই নির্মাতারা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন মোট চারটি সিক্যুয়েল নিয়ে ‘অবতার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’, ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’, ‘অবতার ৪’ এবং ‘অবতার ৫’।

তবে অবতার সিরিজের এই সিক্যুয়েলগুলির মুক্তির তারিখ বছরের পর বছর ধরে একাধিকবার পিছিয়েছে। ছবির মুক্তি নিয়ে এই দীর্ঘ সময় টালবাহানার কারণ কী, তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলও কম নয়। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবতার সিরিজের অন্যতম প্রযোজক জন ল্যান্ডাউ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে ছবির সংখ্যার চেয়ে গুণমানই সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। এদিকে, সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ‘অবতার ৩’ -র দেরিতে মুক্তি পাওয়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এক নেটিজেন লিখেছেন, ২০২০ সালের বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ‘অবতার ৩’-এর শুটিং নাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই দাবি পরবর্তী কয়েক বছর ধরেও ঘুরে ফিরে এসেছে। তাহলে হঠাৎ করে ছবির মুক্তি ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ২০২৫ করা হল কেন? তাঁর প্রশ্ন, পোস্ট-প্রোডাকশন সময়সাপেক্ষ হলেও, এত বছর ধরে শুটিং প্রায় শেষ থাকার পরও এই দেরি তাঁর কাছে বোধগম্য নয়।
এর জবাবে আর এক নেট ব্যবহারকারী ব্যাখ্যা দেন,অবতার সিরিজ মূলত সিজিআই-নির্ভর ছবি। অর্থাৎ ভিএফএক্স প্রযুক্তির উপর ভীষনভাবেই নির্ভরশীল। এখানে পোস্ট-প্রোডাকশনই ছবির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ। কয়েক মাসেই শুটিং শেষ করা সম্ভব হলেও, শতাধিক ভিএফএক্স শিল্পী থাকা সত্ত্বেও সমস্ত ভিজ্যুয়াল এফেক্ট সম্পূর্ণ করতে বছরের পর বছর লেগে যায়। তিনি জানান, ‘অবতার ২’ ও ‘অবতার ৩’ একসঙ্গে শুট করা হলেও, ভিএফএক্সের কাজ ধারাবাহিকভাবে হয়েছে অর্থাৎ ‘অবতার ২’-এর কাজ শেষ হওয়ার পরেই পুরোপুরি ‘অবতার ৩’-এর ভিএফএক্স শুরু হয়।
এই প্রসঙ্গে জন ল্যান্ডাউ বলেন, “কোয়ালিটি, কোয়ালিটি, কোয়ালিটি এটাই আমাদের দর্শন। কোনও কিছুই আমরা অর্ধেকভাবে করতে চাই না। যদি মনে হয় আরও সময় দরকার, আমরা অপেক্ষা করব। কারণ আমরা চাই নিখুঁত ছবি।” তিনি আরও জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তাঁদের প্রযোজনা সংস্থার হাতেই, কোনও স্টুডিও বা কর্পোরেট চাপ এখানে কাজ করে না।
উল্লেখ্য, ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ২০২৫ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি। এই কিস্তিতে প্যান্ডোরার জগৎ আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হবে। নতুন এক না’ভি গোষ্ঠীর পরিচয় মিলবে, যারা আগুনের সঙ্গে যুক্ত ‘দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এ দেখা সামুদ্রিক মেটকাইনা না’ভিদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গোষ্ঠী।
