বিখ্যাত কমেডিয়ান, অভিনেতা বীর দাসকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে নেটিজেনদের মধ্যে তাঁর জাতিগত পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশা। অনেকেই বীর দাসকে বাঙালি বলে ধরে নিয়েছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি এক এক্স পোস্টে অভিনেতা নিজেই সেই ভুল ভেঙে দিয়েছেন।

পোস্টে বীর দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি কোনওভাবেই বাঙালি নন। নিজের পারিবারিক শিকড় সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, "আমি অর্ধেক উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আর অর্ধেক বিহারি।" অভিনেতা আরও যোগ করেন যে, তাঁর জন্ম দেরাদুনে এবং বড় হয়ে ওঠা আফ্রিকার নাইজেরিয়ায়। ফলে তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে বাঙালির সরাসরি কোনও যোগসূত্র নেই।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই সাফাই? আসলে গত কয়েকদিন ধরে বীর দাসের করা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টের নিচে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য জমা হচ্ছিল। কেউ কেউ তাঁকে 'বাঙালি আঁতেল' বলে কটাক্ষ করছিলেন, আবার কেউ কেউ ভাবছিলেন তিনি হয়তো পশ্চিমবঙ্গেরই ভূমিপুত্র। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অভিনেতা নিজেই আসরে নামতে বাধ্য হন।

হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, তাঁর পদবি 'দাস' দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। উত্তর ভারতেও 'দাস' পদবির প্রচলন যথেষ্ট রয়েছে, যা অনেক সময় ওড়িশা বা বাংলার পদবির সঙ্গে গুলিয়ে যায়। নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে যাতে কোনও ভুল তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে, তাই তিনি আগেভাগেই নিজের বংশপরিচয় পরিষ্কার করে দিলেন।

বীর দাসের এই স্পষ্টবক্তা স্বভাবের প্রশংসা করেছেন তাঁর অনুরাগীরা। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, অভিনেতা হয়তো চাননি নির্বাচনের এই চরম মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাক। সব মিলিয়ে, বীর দাসের এই টুইট এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।