বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক বিক্রম ভাট সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক অন্ধকার এবং বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। উদয়পুরের জেলে কাটানো সেই দিনগুলো এবং সেখানে তাঁর হঠাৎ অসুস্থতা কীভাবে তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, সেই রোমহর্ষক কাহিনি এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিক্রম ভাট জানান, উদয়পুরের জেলে থাকাকালীন তিনি এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হন। সেই সময় তিনি মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁর রক্তচাপ এতটা বেড়ে যায় যে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না। জেলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
বিক্রমের জানান, জেলের ভেতর সেই রাতটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর রাত। তিনি বলেন, "আমি অনুভব করছিলাম আমার শরীর আমার সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। চারদিকে শুধু অন্ধকার আর অনিশ্চয়তা। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র চিন্তা ছিল আমার পরিবার এবং আমার অসম্পূর্ণ কাজ।"
জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেও, সেই যাত্রাপথ ছিল খুবই কষ্টকর। একজন প্রথিতযশা পরিচালক হিসেবে যে জৌলুসপূর্ণ জীবন তিনি কাটিয়েছেন, তার ঠিক বিপরীতে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের নশ্বরতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
এই ঘটনা বিক্রম ভাটের জীবনদর্শনেই আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, জেলের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিলেও নতুন করে গড়ে তুলেছে। আইনত জটিলতা এবং শারীরিক অসুস্থতা-এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সুস্বাস্থ্য এবং মানসিক শান্তিই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বর্তমানে বিক্রম সেই দুঃসহ অতীত কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও, উদয়পুরের জেলের স্মৃতি আজও তাঁর মনে শিহরণ জাগায়। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি ভক্তদের এবং চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের অবাক করেছে। বিক্রমের মতে, জীবন আমাদের কখন কোথায় দাঁড় করিয়ে দেবে তা কেউ জানে না, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
পরিচালকের এই কাহিনি কেবল এক সেলিব্রিটির জেল থাকার গল্প নয়, একইসঙ্গে এটি একজন মানুষের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসার এক জীবন্ত দলিল। সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিনি এখন নিজের কাজের মাধ্যমেই দর্শকদের কাছে আরও অর্থবহ কিছু পৌঁছে দিতে চান।
















