তামিল সিনেমার বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন-কমেডি ছবি ‘জেলার ২’-এ অতিথি শিল্পী হিসেবে পর্দায় আসতে চলেছেন বিজয় সেতুপতি! এবং এ কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন অভিনেতা। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই ছবিতে রজনীকান্তের বড়পর্দায় কামব্যাক ঘিরে যখন দর্শকমহলে তুঙ্গে উত্তেজনা, ঠিক তখনই সেতুপতির এই ঘোষণা আলাদা করে কৌতূহল বাড়াল। ২০২৩ সালের সুপারহিট ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে তৈরি হচ্ছে এই ছবি।
বিজয় সেতুপতি জানিয়েছেন, ‘জেলার ২’-এ তাঁর অংশগ্রহণ আসলে তাঁর নিজের তৈরি করা কিছু কেরিয়ার-নিয়মের ব্যতিক্রম। একসময় ক্যামিও বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর একটাই কারণ, রজনীকান্ত!
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেতুপতি বলেন, “আমি ‘জেলার ২’-এ ক্যামিও করেছি কারণ আমি রজনীকান্ত স্যারকে খুব ভালোবাসি। ওঁর সঙ্গে কাজ করলে শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এত দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সুপারস্টারদের কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে।”
নিজের কেরিয়ার নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সেতুপতি আরও স্পষ্ট করেন, এখন তিনি খলনায়কের চরিত্র বেছে নিচ্ছেন শুধুমাত্র স্ক্রিপ্টের জোরে। “এখন আমি খলনায়ক হিসেবে অভিনয় করছি কেবল সেই চিত্রনাট্যের জন্যই, যা আমাকে উত্তেজিত করে,” বলেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, বেশিরভাগ ভিলেন চরিত্রই নায়কের মাহাত্ম্য বাড়ানোর জন্য লেখা হয়, সেখানে নতুনত্ব বা অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ থাকে না, যা তাঁকে আর টানে না।
তারকাখচিত ‘জেলার ২’-এর কাস্টও যথেষ্ট শক্তিশালী। ছবিতে থাকছেন বিদ্যা বালন, মিঠুন চক্রবর্তী, এস জে সূর্য, রম্যা কৃষ্ণন ও যোগী বাবু। পাশাপাশি বিশেষ উপস্থিতিতে দেখা যাবে মোহনলাল, শিবরাজকুমার এবং বিনায়কানকেও। প্রথম ছবির বিপুল সাফল্যের পর ফের পরিচালকের আসনে নেলসন দিলীপকুমার, আর মুখ্যচরিত্রে রজনীকান্ত যা ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুরাগীদের জন্য বাড়তি আশ্বাস।
সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘জেলার ২’। বিজয় সেতুপতির ক্যামিও নিশ্চিত হওয়া এবং একঝাঁক তারকার উপস্থিতি ইতিমধ্যেই ছবিটিকে ঘিরে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি সারা দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে বিজয় সেতুপতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন রাম্যা মোহন নামের এক তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাম্যা দাবি করেন, এক মহিলাকে নিজের ইচ্ছায় ‘ব্যবহার’ করেছেন অভিনেতা। যদিও পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় পড়ে যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, বছরের পর বছর এক অজ্ঞাত পরিচয় মহিলাকে ব্যবহার করে গিয়েছেন অভিনেতা। সেই মহিলার শেষমেষ ঠাঁই হয়েছে পুননির্বাসন কেন্দ্রে। তিনি লেখেন, “সেতুপতিকে ভগবান রূপে পুজো করা হয়। কিন্তু তাঁর আসল রূপ তো কেউ দেখেনি।” যদিও সেই টুইট খুব বেশি ক্ষণ থাকেনি এক্স হ্যান্ডেলে। কিছু ক্ষণের মধ্যে মুছে দেওয়া হয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও অভিযোগের আঙুল উঠলেও প্রথমে এই বিষয়ে মুখ খোলেননি বিজয় সেতুপতি। যদিও তাঁকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে সেরা অভিনেতার তকমা দেওয়া হয়। এমনকী তাঁর স্বভাবের জন্য তিনি নাকি ‘ভাল মানুষ’ বলেও পরিচিত। তবে এর মধ্যেই এমন অভিযোগ অভিনেতার চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপে উঠেছেন বিজয়ের অনুরাগীরাও।
অবশেষে মুখ খুলেছিলেন অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার টিম ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করেছে। দক্ষিণী তারকার মন্তব্য, যাঁরা আমাকে একটু হলেও চেনেন, তাঁরা একথা শুনে হাসবেন। আমি নিজেও আমাকে চিনি। এইধরনের নোংরা অভিযোগ আমাকে বিচলিত করতে পারবে না। আমার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ভীষণ দুঃখ পেয়েছে এসব শুনে। তবে আমি ওদের বলেছি এসবে কান দিও না। এই মহিলাটি ইচ্ছে করে চাইছে খবরে থাকতে। তাই ওকে দু মিনিটের খ্যাতি উপভোগ করতে দিন।”
