২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজয় দেবেরাকোন্ডা আর রশ্মিকা মান্দানার বিবাহ-অনুষ্ঠান। গতকাল ৪ মার্চ হায়দরাবাদের তাজ কৃষ্ণ বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হল বিজয়-রশ্মিকার বিবাহ-উদযাপন৷
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে বিজয় বলছেন, আশা করছি আজ এই উদযাপন শেষ এরপর চুপচাপ মাটির নীচে লুকিয়ে পড়ব। " কথাটি বলার সময় বিজয় মজাদার ঘুমের অভিব্যক্তিও করেছেন৷ বিজয়ের কথা শুনে রশ্মিকা জোরে হেসে উঠেছেন৷ প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে বিজয়-রশ্মিকা হায়দরাবাদে তেলুগু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন৷ সেখানেই সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের উদ্দেশে দু'হাত জোড় করে নমস্কার জানিয়েছেন।
বিজয় তেলুগু সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, তেলুগু সংবাদমাধ্যম সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল৷ আমাদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সকলকে ধন্যবাদ৷ আমরা এসেছি যাতে আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা হয় এবং আমরা আপনাদের আশীর্বাদ নিতে পারি৷ তেলুগু রাজ্যগুলিতে একজন ভাল পুত্রবধূ আছে, তার যত্ন নেবেন৷ "

প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে অল্লু অর্জুন-সহ তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের বহু খ্যাতনামী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। 'পুষ্পা'র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের প্রীতিভাজ ছিল ছোটখাটো পুনর্মিলন উৎসব৷
রাত বাড়তেই বিলাসবহুল হেটেল চত্বরে নিরাপত্তা হল জোরদার। অল্লু অর্জুন ছাড়া এসেছিলেন সস্ত্রীক রামচরণ, কিছুক্ষণের জন্য দেখা গেল চিরঞ্জিবীকে৷ নাগার্জুন এসেছিলেন পুত্র নাগা চৈতন্যের সঙ্গে। স্বামীর সঙ্গে প্রীতিভোজে আসতে দেখা গেল নীনা গুপ্তকে। এছাড়া এসেছিলেন কর্ণ জোহর, ম্রুণাল ঠাকুর, নম্রতা শিরোদকার, কৃতী শ্যানন-সহ অনেকে৷
প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে রশ্মিকা পরেছিলেন লাল রঙের মহীশুর সিল্কের শাড়ি৷ সঙ্গে গলায় পরেছিলেন ভারী সোনার হার, কানে লম্বা ভারী দুল৷ দুই হাতে ছিল রতনচূড় আর আঙটি৷ বিজয় পরেছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় পোশাক, সাদা কুর্তা আর সাদা ধুতি, সঙ্গে ছিল ওর্না৷ বিজয়ের বাঁ হাতে ছিল ঘড়ি আর গলায় ছিল হাঁসুলি৷

২৬ ফেব্রুয়ারি তেলুগু আর কোভাডা দুই রীতি মেনে উদয়পুরে বিয়ে করেন বিজয়-রশ্মিকা৷ ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিল বিজয়-রশ্মিকার প্রাক্ বিবাহ অনুষ্ঠান৷ সেখানে অতিথিদের জন্য জাপানি নৈশভোজ, পুল ভলিবল এবং "ভিরশ প্রিমিয়ার লীগ" নামে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি মেমেন্টোসের পাহাড়ি রিসর্টে সঙ্গীত এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি গায়েহলুদ আর মেহেন্দি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ৪ মার্চ উদযাপনে যোগ দেওয়ার জন্য দম্পতি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বিয়ের পর, দম্পতি ১ মার্চ আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানে যান বিজয়-রশ্মিকা নবদম্পতি বিভিন্ন শহর জুড়ে ভক্তদের কাছে মিষ্টি পাঠিয়েছিলেন। ২ মার্চ, দম্পতি তেলেঙ্গানার থুম্মনপেটায় বিজয়ের জন্মস্থান পরিদর্শন করেন। তারা তাদের নতুন বাড়িতে গৃহপ্রবেশ এবং সত্যনারায়ণ ব্রত পূজা করেছিলেন। বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের পোস্টটি এশিয়ার সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা বিয়ের পোস্টে পরিণত হয়েছে, যা বিরাট কোহলির আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
২০১৮ সালে বিজয়-রশ্মিকার একসঙ্গে প্রথম কাজ ছিল 'গীত-গোবিন্দম্'। এরপর ২০১৯ সালে ডিয়ার কমরেড ছবিতে দেখা গিয়েছিল বিজয়-রশ্মিকাকে৷ বিয়ের পরে বিজয়-রশ্মিকাকে একত্রে দেখা যাবে 'রণবলী'তে৷
