এক সময় গোবিন্দার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁর সেই জৌলুস কিছুটা ফিকে হতে শুরু করেছে। ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বলিউডে যখন আমূল পরিবর্তন এল গোবিন্দা নিজেও তাঁর ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণে প্রায় তিন বছর বিনোদন জগৎ থেকে দূরে থাকার পর যখন তিনি 'কামব্যাক' করলেন, দেখলেন ততদিনে দর্শকের রুচি বদলে গিয়েছে।
তবে ২০০৭ সালে সলমন খান এবং পরিচালক ডেভিড ধওয়ানের সঙ্গে তাঁর 'পার্টনার' ছবিটি তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। অনেকেই মনে করেন, সলমন খানই গোবিন্দার কেরিয়ারের মোড় ঘোরানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা দাবি করলেন, বিষয়টি আসলে উল্টো ছিল।
গোবিন্দা জানান 'পার্টনার' ছবিতে সলমনের শারীরিকভাবে যে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, সেই 'আইডিয়া'টি ছিল তাঁরই। গোবিন্দা জানান, পরিচালক ডেভিড ধওয়ান এবং সলমনের ভাই সোহেল খানের সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ দেন যে, সোহেলের প্রোডাকশন হাউসের জন্য সলমনকে এক নতুন অবতারে পেশ করা উচিত। গোবিন্দা বলেছিলেন, "আমরা ওর ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি বদলে দেব। আগে যে সলমনকে দেখা যেত আর এখন তাঁকে দেখা যাবে না, সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যাবে।"
গোবিন্দা সলমনের প্রশংসা করে বলেন যে সলমন অত্যন্ত আন্তরিক। কাজের সময় 'ভাইজান' তাঁর কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। গোবিন্দা তাঁকে বলেছিলেন, "তোমার চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ছে, একটু শরীরচর্চা করো। মনে হচ্ছে চুলও কিছুটা কমে যাচ্ছে, তাই এটা নিয়েও কিছু একটা করা দরকার।"
গোবিন্দার দাবি, তাঁর এই কথার পরেই সলমন শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন এবং নিজের 'গ্রুমিং' করান। গোবিন্দা গর্বের সঙ্গেই বলেন, "পার্টনার ছবির পর সলমনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সে আর আগের মতো নেই—পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।"
প্রসঙ্গত, সলমন খান এবং পরিচালকদ্বয় রাজ ও ডিকে- একসঙ্গে এবার বড় ধামাকা নিয়ে আসছে। এই ছবিতে সলমনকে এমন একজন সুপারহিরো হিসেবে দেখা যাবে, যে বছরের পর বছর পৃথিবী রক্ষা করতে করতে ক্লান্ত। সে এখন তার সুপারহিরো জীবন থেকে অবসর নিয়ে শান্তিতে থাকতে চায়। কিন্তু অবসর নিতে চাইলেও পরিস্থিতি তাকে শান্তিতে থাকতে দেয় না। বারবার বিভিন্ন ঘটনা তাকে অ্যাকশনে ফিরতে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত সে এক বিশাল সংঘাতের মুখোমুখি হয়। এটি মূলত একটি 'হাই-কনসেপ্ট' সুপারহিরো কমেডি ছবি হতে চলেছে। গল্পে ভরপুর বিনোদনের পাশাপাশি কমেডি এবং সুপারহিরো অ্যাকশনের সংমিশ্রণ থাকবে। জানা যাচ্ছে, চলতি বছর এপ্রিল মাসে অভিনেতাকে চূড়ান্ত চিত্রনাট্যটি শোনানো হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই নভেম্বর মাস থেকেই সিনেমার শুটিং শুরু হতে পারে।
