প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। জানা গিয়েছে, ২৯ মার্চ রবিবার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর! দুর্ঘটনার শিকার হন। এদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ওড়িশার তালসারি সংলগ্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোটে চেপে ঘোরার সময় বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার করে ওড়িশার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে চিকিৎসকের দল। এইমুহূর্তে অভিনেতার দেহ দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন কোনওভাবে সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। এবং তলিয়ে যান! তারপর দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এরপর তাঁর দেহ পাওয়া গেলে ৬টা ২০নাগাদ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করেছে এবং অভিনেতার দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্ত হবে।
২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির হাত ধরে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছিলেন রাহুল। সেই ছবির নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গেই সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন তিনি। মাঝে বিচ্ছেদের সুর শোনা গেলেও ছেলে সহজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবারও এক ছাদের তলায় থাকা শুরু করেছিলেন তাঁরা। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পডকাস্ট শো ‘সহজ কথা’ বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।রাহুলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন টলিপাড়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুরা। মনখারাপ রাহুলের প্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়েরও। বহু সাক্ষাৎকারে এই জনপ্রিয় সাহিত্যিকের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা একাধিকবার বয়কট করেছিলেন রাহুল। জানিয়েছিলেন কীভাবে শীর্ষেন্দুর লেখা তাঁর কৈশোরকেই শুধু রঙিন করে তোলেনি, বরং লেখালিখির প্রতিও আগ্রহী করে তুলেছিল।
আজকাল ডট ইন-কে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বললেন, “আমি তো ভাবতেই পারছি না ও নেই। আমার খুব প্রিয় মানুষ ছিল ও। খুব পছন্দ করতাম। খবরটা কিছুক্ষণ আগেই আমার কানে এসেছে। যা শুনছি, গভীর সমুদ্রে রাহুল ছিল না। সুমদ্র সৈকতের সামনে তো সমুদ্রের জল খুব গভীর থাকে না। কী করে যে এই অঘটন ঘটল? কী জানি...আমাকে জেঠু বলে ডাকতো। আমার লেখা কাগজের বউ নিয়ে যখন সিনেমা হল, ও তাতে অভিনয়ও করেছিল মুখ্যভূমিকায়। এই তো কিছুদিন আগেই আমার বাড়িতে এসেছিল ওর পডকাটের শুটিংয়ের জন্য। এত প্রাণবন্ত একটা ছেলে। কী থেকে কী যে হয়ে গেল, খুব দুঃখের। ওঁর ছেলেটি…সহজ কী ফুটফুটে। স্ত্রীও খুব মিশুকে। ওদের কথাও ভেবে খুব খারাপ লাগছে।”
প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দু’দশকের বেশি সময় ধরে টলিপাড়ায় চুটিয়ে কাজ করছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায়, ওয়েব দুনিয়ায় ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। বর্তমানে দর্শকরা তাঁকে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর এবং শ্বেতা মিশ্রর রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়েছিল। টিআরপিতেও তার ফল দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া তিনি আগে ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে দর্শক সম্প্রতি হইচই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ঠাকুমার ঝুলি’তে দেখেছেন। সেখানে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
&t=2069s















