নন্দনে দেখানো হচ্ছে বাংলা ছবি প্রত্যাবর্তন৷ সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। ফেডারেশন এবং টলিউড প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "যে নিয়মগুলো ইন্ড্রাস্ট্রির ক্ষতি করেছে, সেই নিয়মগুলো তো থাকার কথা নয়। যাঁরা এসব অধিকার কায়েম করেছিলেন, মানুষ তাঁদেরকে বলেছেন আপনারা অনেক পরিশ্রম করেছেন, এবার একটু বিশ্রাম নিন৷ এই নিয়মগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ যেভাবে চললে সিনেমা বাঁচবে, টেকনিশিয়ানরা বাঁচবেন, শিল্পীরা বাঁচবেন তাই করা হবে৷ "
রুদ্রনীল আরও বলেন, "সিসিআই এর একটা নিয়ম আছে৷ পৃথিবীর সমস্ত ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি সেই নিয়ম মেনে চলেন৷ আমরাও আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব৷ কারও অসুবিধা হবে না। যদি কেউ মনে করেন স্বৈরাচার পোষণ করব, তাঁর কষ্ট হবে৷ কিন্তু বাকি যারা গণতন্ত্র এবং শিল্পের পক্ষে তাঁদের আনন্দ হবে৷"
ব্যান কালচার প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, "যাঁরা ব্যান কালচার শুরু করেছিলেন, মানুষ তাঁদের ব্যান করে দিয়েছেন৷ রাজনৈতিক মত পথ থেকে সরে এসে নতুন বিজেপি সরকারের লক্ষ্য যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কাজ করতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গের সব কটি ক্ষেত্রে যাতে মানুষ প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারা যায়, সেই পরিবেশের কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দ্বর্থ্যহীন ভাষায়৷"
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "নিরপেক্ষ মিডিয়াকেও বাঁচতে দেয়নি৷ তাই আপনাদের প্রশ্ন করা এবং আমাদের শোনা দু'পক্ষেরই একই সমস্যা ছিল, এমনকি যাঁরা দেখছেন তাঁদেরও এই না-এর মধ্যে বেঁচেবর্তে অক্সিজেন নিতে হয়েছে৷ মানুষের বিভিন্ন রকম সিনেমা পছন্দ৷ মেনস্ট্রিম বাণিজ্যিক ছবির আধুনিকীকরণের প্রয়োজন আছে৷ ২০১৬ সাল পর্যন্ত সম্ভবত সিনেমা হল প্রায় ৭০০ সিনেমা হল ছিল এখন সেটা প্রায় ২০০ তে নেমে এসেছে৷ মানুষ সিনেমা দেখতে চান৷ সেই বিষয় আলোচনা চলছে সিনেমাহলের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়। এতগুলো মানুষ জড়িয়ে এই শিল্পের সঙ্গে, বাণিজ্য বা জীবিকার সঙ্গে যেভাবেই ভাবুন৷ এতগুলো বছর ধরে আমরা চাইতেই ভুলে গিয়েছি৷ এখন পরিবর্তিত পরিবেশ৷ তাই জানলাটা খুলে দিয়েছি৷ এখন আমরা আকাশে পাখি, মেঘ আর জানলা দিয়ে একটা গাছও দেখতে চাইছি৷ কিন্তু গাছটা তো কেটে ফেলা হয়েছে৷ লাগাতে হবে৷ এটা করতে সময় লাগবে সেটাও মানুষ জানেন৷"
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রুদ্রনীল বলেন, "কার কার ইন্টারভিউ নেওয়া যাবে না, কার কার ছবি ছাপানো যাবে না সেই নির্দেশও দেওয়া হত৷ যোগ্যদের তুলে ধরতে চেয়েছেন আপনারা কিন্তু আপনারাও তো পারেননি৷ আপনারা আমরা সকলে যা চাই সেই স্বাধীনতাই আসবে৷ নো টুকরে টুকরে গ্যাং। আমরা যে ভাষার যে জীবিকার মানুষ হোক, টুকরো টুকরো করা যাবে না৷ গুণী মানুষদের নিজের মতো করে ভাবনার পরিসর ছিল না।"
সবশেষে রুদ্রনীলের সংযোজন, "আমরা প্রত্যেকেই আশাবাদী৷ আলোচনা করে ভাল দিকেই যাওয়া হবে৷ অচলায়তনের উপর ধুলো পড়ে রয়েছে, সেই ধুলো সরাতে একটু সময় লাগবে৷ আমরা সেই কাজই করছি৷ মিডিয়ার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেও কথা বলছি। এই সরকার মানুষ তৈরি করেছেন৷ এবারের ভোট মানুষ ভোট হিসাবে দেননি, ভবিষ্যৎ হিসাবে দিয়েছেন সমস্ত জীবিকার মানুষ, গ্রাম শহর নির্বিশেষে। তাই তাঁদের মতামতকে সম্মান জানানো, গণতন্ত্রকে সম্মান জানানো, এই কাজ আমরা শুরু করেছি৷ যা হবে সকলের জন্যই মঙ্গলজনক হবে৷"















