অনিরুদ্ধর জন্মদিনে সারপ্রাইজ ছোট্ট তানিয়ার। বাণীর শুভেচ্ছায় ঘুম ভাঙে তার। মায়ের হাতে তৈরি কেক কেটে চলছে জন্মদিনের সেলিব্রেশন। কেমন ছিল সেই আয়োজন? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল দাসানি ১ স্টুডিওতে, স্টার জলসার ধারাবাহিক 'ও মোর দরদিয়া'র শুটিং ফ্লোরে।


ছোট্ট তানির উপহার 


ছোট্ট তানির ডাকে ঘুম ভাঙে অনিরুদ্ধর। ঘুম চোখেই সে দেখে তানি তার জন্য ছবি এঁকে নিয়ে এসেছে। বাণীও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় তাকে। মেয়ের আবদারে লাজুক চোখে অনিরুদ্ধর সঙ্গে হ্যান্ডশেকও করে বাণী। এই দৃশ্যেরই শুটিং চলছে। সিনে খুদে অভিনেত্রী থাকায় কিন্তু একেবারেই কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। বরং তালে তাল মিলিয়ে একের পর এক শট দিয়ে যাচ্ছে পর্দার 'তানিয়া' ওরফে জিয়ানা গাঙ্গুলি। বাণীর একমাত্র মেয়ে যেমন পর্দায় শান্ত স্বভাবের। বাস্তবেও জিয়ানা মিষ্টি মেয়ে। এইটুকু বয়সেই সে ডিরেক্টরের প্রতিটা কথাকে মেনে চলে, শটের গুরুত্ব বোঝে। তাহলে সেটে দুষ্টুমি করে কে? আজকাল ডট ইনের প্রশ্নে লাজুক হাসি জিয়ানার। পাশে 'অনিরুদ্ধ' ওরফে অভিনেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ। জবাবটা বিশ্বজিৎ-ই দিলেন। নায়কের কথায়, "নিজের মুখে নিজের কুকীর্তির কথা আর কী বলব!" এখন তো 'মিছিমিছি' জন্মদিন হচ্ছে বিশ্বজিতের। আসল জন্মদিনে জিয়ানা কি উপহার দেবে তাকে? গালে হাত দিয়ে একটু ভেবে তার জবাব, "আমায় বলেছে একটা গাড়ি দিতে। কিন্তু গাড়ি দেব না, একটা পাঞ্জাবি কিনে দেব।" জিয়ানার কথা শুনে হেসে লুটোপুটি বিশ্বজিৎ। 


বাবা-মেয়ের ক্লোজআপ শট নেওয়ার পর 'বাণী' ওরফে রণিতার কাছে ছুটে চলে গেল জিয়ানা। পিছনে ছুটলেন বিশ্বজিৎ-ও। এবার যেন ফ্রেমটা পূর্ণ হল। একসঙ্গে বাবা-মা ও তানি। রণিতা বহু বছর পর ছোটপর্দায় ফিরেই মায়ের চরিত্রে, শুরুতে নায়িকার জৌলুস হারিয়ে যাওয়ার ভয় করেনি? রণিতার কথায়, "যদি বয়সটা অনেক কম হত, তাহলে হয়তো এই নিয়ে ভাবতাম। কিন্তু আমায় যখন গল্পটা শোনানো হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল আমি একজন আহত বাঘিনী, যার সঙ্গে আছে শাবক‌। ব্যস! এই কথাটাই মনে গেঁথে গিয়েছিল। আর কিছু ভাবার প্রয়োজন মনেই করিনি। যদি হাতছাড়া করতাম চরিত্রটা, তাহলে বড় ভুল হয়ে যেত।"

আলিয়ার মতো হতে চান রণিতা


রণিতা আরও বলেন, "সত্যি কথা বলতে কী, আলিয়া ভাটকে দেখার পর ভেবেছিলাম আমিও তাড়াতাড়ি বিয়ে করে মা হব। কেরিয়ারও ব্যালেন্স করে চলব। সেই ইচ্ছেটা বাস্তবে না হলেও পর্দায় পূরণ হয়েছে।" রণিতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন বিশ্বজিৎ। শেষ হতেই মুচকি হাসি দেখা গেল তাঁর ঠোঁটে। কী ব্যাপার? বিশ্বজিৎ মাথা নেড়ে বলেন, "না মানে ওর ইচ্ছেটা এখনও পূরণ করার সময় আছে, সেটাই ভাবছিলাম।" রণিতা জোরে হেসে বলেন, "এখন? সিরিয়ালে এত এপিসোড ব্যাঙ্কিং নেই। এখন তো ছাড়বেই না আমায়।" 


গল্পের টুইস্ট থেকে শুরু করে টিআরপি, দর্শকের ভালবাসায় রয়েছে 'ও মোর দরদিয়া'। এমনকী হিন্দিতেও এর রিমেক তৈরি হয়েছে। কেমন লাগছে? বিশ্বজিৎ বলেন, "এটা আমাদের কাছে উৎসাহের। আর একটা কথা বলব, রণিতার মতো এই চরিত্রটা কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।" বিশ্বজিতের প্রশংসায় মুখে হাসি ফুটে ওঠে রণিতার। জিয়ানার গাল টিপে আদর করে দেয় সে। মা-মেয়ের খুনসুটি চলতেই থাকে। শুটিং ফ্লোর থেকে ডাক এল, তিনজনেই আবার ফিরলেন গল্পের চরিত্রে।