বিশ্বসিনেমার ইতিহাসে এমন শিল্পী খুব কমই আছেন, যাঁদের জীবন আর শিল্প একসঙ্গে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে। সেই বিরল তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবেন চার্লি চ্যাপলিন।
2
13
চার্লি চ্যাপলিনের হাসি যেমন অমর, তাঁর সেই মাছি গোঁফ, ঢাউস জুতো, কালো রঙের ফল্ট হ্যাট যেমন অমর, তেমনই অমর হয়ে আছে তাঁর শেষ জীবনের ঠিকানাও—সুইৎজারল্যান্ডের নিভৃত লেকপাড়ের এক প্রাসাদসদৃশ বাড়ি, যা আজ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য খোলা এক অনন্য জাদুঘর।
3
13
সুইজারল্যান্ডের শান্ত শহর কোর্সিয়ার-সুর-ভেভে-তে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক এস্টেটের নাম চার্লি চ্যাপলিন'স ওয়ার্ল্ড। এখানেই পরিবার নিয়ে জীবনের শেষ ২৫ বছর কাটিয়েছিলেন চ্যাপলিন।
4
13
২০১৬ সালে এই সম্পত্তিকে রূপ দেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ এক জাদুঘরে—যেখানে শিল্পীর জীবন, সৃষ্টিশীলতা, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সিনেমা ইতিহাস একসঙ্গে জড়িয়ে আছে।
5
13
পুরো ১০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এস্টেটের কেন্দ্রবিন্দু হলো চ্যাপলিনের বাসভবন মনোয়ার দ্যা ব্যান -যা প্রায় আগের মতোই সংরক্ষিত। ঘরের আসবাব, পারিবারিক ছবি, ব্যক্তিগত জিনিস সব মিলিয়ে মনে হয় যেন শিল্পী একটু আগেই বেরিয়ে গেলেন, আবার ফিরবেন।
6
13
এখানে রয়েছে একটি হলিউড-স্টাইল স্টুডিও, যেখানে তাঁর বিখ্যাত চরিত্র, দৃশ্য ও চলচ্চিত্র-জগতের পুনর্নির্মাণ দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় নির্বাক সিনেমার সোনালি যুগে। দর্শকরা শুধু দেখেন না, চ্যাপলিনের জগৎ অনুভব করেন।
7
13
এস্টেটের চারপাশে বিস্তৃত সবুজ পার্ক থেকে দেখা যায় অপূর্ব লেক জেনেভা-র জলরাশি এবং দূরে মাথা তুলে থাকা অ্যাল্পস পর্বতমালা। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নাকি চ্যাপলিনকে জীবনের শেষ অধ্যায়ে শান্তি দিয়েছিল, যেখানে বিশ্বখ্যাত শিল্পী একসময় খুঁজে পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত আশ্রয়।
8
13
আজ সেই ব্যক্তিগত আশ্রয়ই হয়ে উঠেছে বিশ্বসংস্কৃতির তীর্থস্থান। এখানে এসে বোঝা যায়, চ্যাপলিন শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সময়ের ভাষা, সমাজের আয়না, আর মানুষের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর মানবিকতার গল্পকার।
9
13
সম্প্রতি ইউরোপ ট্যুরে বেড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং প্রথমেই তিনি হাজির হয়েছিলেন সুইৎজারল্যাণ্ডে চ্যাপলিনের বাড়িতে। তাঁর 'ঈশ্বর'-এর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাই ফেসবুকে তুলে ধরলেন রাহুল।
10
13
“ইউরোপ যাওয়ার কথা যখন উঠলো আমি শুরুতেই সুইৎজারল্যাণ্ড যেতে চেয়েছিলাম।আর কোনও কারণ নেই,শুধুমাত্র আমার গুরুদেব,ঈশ্বর চার্লি চাপলিন এর শেষ জীবন আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হবার পর এই দেশে কেটেছে।”
11
13
“আমি ভেভে তখন পৌঁছলাম তখন আকাশ কাঁদছে,আমি কাঁদছি তার চেয়েও বেশি।”
12
13
“এ ছিল আমার তীর্থযাত্রা।আমার ভাটিকান, মক্কা, বারাণসী সব।আমরা যারা জীবনে একবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটাও শট দিয়েছি,তারা সবাই এই মানুষটার কাছে ঋণী।”