ভূমির ‘ব্রেক’
প্রায় এক দশক ধরে টানা এক প্রজেক্ট থেকে আরেক প্রজেক্টে ছুটে চলার পর, ২০২৫ সালে ইচ্ছাকৃতভাবেই অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ভূমি। তাঁর কথায়, একের পর এক চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ার চাপ ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিক দু’দিক থেকেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। সেই গতি এতটাই তীব্র ছিল যে, অভিজ্ঞতাগুলোকে ঠিকমতো বুঝে নেওয়া বা একটু থেমে ভাবার জায়গাই মিলছিল না। পরে অভিনেত্রী বুঝতে পারেন, এই অবিরাম দৌড় তাঁর কাজেও প্রভাব ফেলছে।
এই চাপ আরও বেড়ে যায় নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘দ্য রয়্যালস’ মুক্তির পর। ঈশান খট্টরের বিপরীতে অভিনীত এই সিরিজ দ্বিতীয় সিজনের ছাড়পত্র পেলেও, ভূমির পারফরম্যান্স ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলিং শুরু হয়। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে ভূমি স্বীকার করেন, অতিরিক্ত ‘আওয়াজ’ একজন শিল্পীকে ধীরে ধীরে আবেগহীন করে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও মেনে নেন, সব সমালোচনাকে এককথায় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোন মন্তব্য থেকে শেখার আছে, আর কোনটা নিছক নেতিবাচকতা-এই দুটো ব্যাপার আলাদা করতে শেখাই ছিল তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত।
রোহিত-নিতাংশী-রাশার নতুন ছবি
বলিউডে আবেগঘন যুবক-যুবতীর প্রেমকাহিনির দিকে ঝোঁক ক্রমশ স্পষ্ট আর সেই স্রোতেই তৈরি হচ্ছে এক সম্ভাবনাময় নতুন প্রজেক্ট। খবর অনুযায়ী, প্রযোজক অতুল কাসবেকর ও তনুজ গর্গ আলোচনা চালাচ্ছেন রোহিত সরাফ, নিতাংশী গোয়েল ও রাশা থাদানিকে নিয়ে একটি তীব্র জেন জেড লাভ স্টোরি বানানোর। সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবেগের সংঘাত, সবই থাকবে গল্পের কেন্দ্রে।
খবর, ছবিটি ভাবা হচ্ছে এক হাই-স্টেকস রোমান্টিক ড্রামা হিসেবে, যার মূল নির্যাস হবে এক জটিল প্রেমের ত্রিকোণ। যদিও প্রজেক্ট এখনও আলোচনার পর্যায়ে, তবে তিন অভিনেতার সঙ্গেই কথাবার্তা নাকি বেশ এগিয়ে গিয়েছে। পরিচালক এখনও চূড়ান্ত না হলেও, প্রস্তাবিত কাস্টের জনপ্রিয়তা ও পর্দার ভিন্নধর্মী ইমেজ ইতিমধ্যেই ছবিটিকে ঘিরে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সময়টা এই প্রজেক্টের জন্য আদর্শ বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রি পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক রোমান্টিক ছবি ‘সাইয়ারা’ ও ‘এক দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়াত’-এর সাফল্য ফের প্রমাণ করেছে দর্শকরা বড় পর্দায় আবারও প্রেমের গল্প দেখতে প্রস্তুত। বিশেষ করে সেইসব গল্প, যেখানে আবেগ আর তরুণ সম্পর্কের জটিলতাই মূল আকর্ষণ আর যা আর শুধুমাত্র ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
শাহিদের ‘বিশাল’ ঝগড়া
বিশাল ভরদ্বাজ আর শাহিদ কাপুর। এই জুটি মানেই বলিউডে আলাদা একটা অধ্যায়। ‘কামিনে’, ‘হায়দর’, ‘রেঙ্গুন’-এর পর ফের একসঙ্গে ফিরছেন তাঁরা আসন্ন ছবি ‘ও’ রোমিও’-তে। মাঝখানে দু’জনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে, এমন গুঞ্জন ইন্ডাস্ট্রিতে ঘুরে বেড়ালেও, এবার সেই জল্পনায় নিজেই দাঁড়ি টানলেন বিশাল ভরদ্বাজ।
ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে খানিকটা মজা, খানিকটা আত্মসমালোচনার সুরে ভিশাল বলেন, “একটা কথা বলতে চাই। বলতে একটু জড়তা হচ্ছে, কিন্তু তবু বলছি। এখনও পর্যন্ত ন’বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। আমার পরিচালক বন্ধুরা প্রায়ই খোঁচা দেয়, বলে-শাহিদ কাপুরের সঙ্গে চারটে ছবি করেছি বলে আমার দশ নম্বর ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডটা পাওয়া উচিত!” এখানেই থামেননি তিনি। শাহিদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সমীকরণ আরও স্পষ্ট করে বিশাল যোগ করেন, “আমি যে কাজের সময় কতটা কঠিন -দুরূহ মানুষ, সেটা শাহিদ খুব ভাল করেই জানে। আমার প্যাসিভ অ্যাগ্রেশন ও বোঝে। আমার মনে হয়, আমার সঙ্গে চারটে ছবি করার জন্য শাহিদেরই একটা ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া উচিত।”
দু’জনের মধ্যে মতভেদ নেই, এমন দাবি করেননি পরিচালক। বরং অকপট স্বীকারোক্তি, “আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে, অনেক হয়েছে। সেই ঝগড়াগুলোর কথাই মিডিয়ায় বেশি এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এখন আর অতটা লড়াই হয় না।”
