মেঘনা-কাব্য

বলিউডের ‘রাজি’ কিংবা ‘তলভার’ ছবিখ্যাত জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক মেঘনা গুলজার-এর আগামী ইনটেন্স ক্রাইম-থ্রিলার ছবি ‘দায়রা’  নিয়ে এই মুহূর্তে বি-টাউনে তুমুল চর্চা চলছে। সম্প্রতি এই ছবির একটি দুর্দান্ত বিহাইন্ড-দ্য-সিন মেকিং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলিজ করা হয়েছে, যা দর্শকদের প্রত্যাশাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন বলিউডের ‘বেবো’ কারিনা কাপুর খান এবং দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার পৃথ্বীরাজ সুকুমারন।  ছবিটির টিং শেষ হওয়ার পর, পরিচালক মেঘনা গুলজারের সাথে সেটে কাজ করার এক অদ্ভুত ও বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পৃথ্বীরাজ। তিনি জানিয়েছেন, এই ছবির শ্যুটিং চলাকালীন মেঘনার সঙ্গে ওঁর দেদার তর্কাতর্কি ও ঝগড়া হয়েছে!
মেঘনা গুলজারের কাজের ধরনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে পৃথ্বীরাজ বলেন, “বলিউডের যে একজন পরিচালকের কাজ, ওঁর সিনেমার ক্রাফট এবং ওঁর গল্প বলার ধরনকে আমি বছরের পর বছর ধরে নিখুঁতভাবে ফলো করে এসেছি— তিনি হলেন মেঘনা গুলজার। ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য দারুণ এক পাওনা।”

কিন্তু এর পরেই সেটের একটি গোপন ও মজাদার তথ্য ফাঁস করে অভিনেতা হাসতে হাসতে বলেন, “আমি এই ছবির শুটিংয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ করেছি এবং আমার অভিজ্ঞতা এককথায় অসাধারণ। মেঘনার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি ভীষণ মজা পেয়েছি। তবে এটাও সত্যি যে, আমার পুরো কেরিয়ারে কোনও পরিচালকের সাথে আমি বোধহয় এত বেশি তর্কাতর্কি করিনি, যতটা মেঘনার সঙ্গে করেছি!”

 

কেমন চলছে ‘ককটেল ২’? 

গত ১৯শে জুন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে হোমি আদাজানিয়ার  বহুল চর্চিত রোম্যান্টিক-কমেডি ড্রামা ‘ককটেল ২’। সাইফ আলী খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের ২০১২ সালের কাল্ট হিট ছবি ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়েল হওয়ায় এই ছবিটিকে ঘিরে শুরু থেকেই শাহিদ কাপুর , রশ্মিকা মন্দানা এবং কৃতি শ্যানন -এর ভক্তদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা ছিল। মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, বক্স অফিসে ইতিমধ্যেই ৬০ কোটির গণ্ডি টপকে গেছে এই সিনেমা। তবে প্রথম সপ্তাহান্তের পর থেকেই ওঁর দৈনিক আয়ের গ্রাফে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে।ট্রেড অ্যানালিস্ট ওয়েবসাইট ‘স্যাকনিল্ক’ -এর লেটেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম বৃহস্পতিবার ভারতের বক্স অফিসে ‘ককটেল ২’ নেট ৩.৭৫ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে। ওঁর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার ছবিটির কালেকশন ছিল ৫.২৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মাত্র এক সপ্তাহে ভারতে এই ছবির মোট ঘরোয়া বক্স অফিস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি টাকা।


‘মুন্না ভাই ৩’ হবেই?

বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাল্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি সঞ্জয় দত্ত এবং আরশাদ ওয়ার্সি  অভিনীত ‘মুন্না ভাই’ সিরিজ। ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’  এবং ‘লগে রাহো মুন্না ভাই’ -এর বিপুল সাফল্যের পর বছর খানেক আগে একটি ধামাকাদার টিজার রিলিজ করা হয়েছিল— ‘মুন্না ভাই চলে আমেরিকা’। যেখানে মুন্না ও সার্কিটকে আমেরিকার ভিসার জন্য ইংরেজি শিখতে দেখা গিয়েছিল। টিজার দেখে ভক্তদের উন্মাদনা আকাশ ছুঁয়েছিল, কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই ছবি কোনওদিন প্রেক্ষাগৃহে আসেইনি।আজ এত বছর পর, সেই বহু প্রতীক্ষিত প্রজেক্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আসল কারণ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘তৃতীয়’ সিনেমা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। 

ছবিটি কেন কোনোদিন আলোর মুখ দেখল না, তার পেছনের ভেতরের গল্প খোলসা করে রাজকুমার হিরানি বলেন, “আসলে ওই ট্রেলার বা টিজারটি ভীষণ তাড়াহুড়ো করে অনেক আগেই বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। তখন আমরা ছবির গল্প বা চিত্রনাট্য লেখার প্রাথমিক স্তরে ছিলাম। সেই সময় ছবির প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া একটি অন্য সিনেমা রিলিজ করছিলেন, তাই তিনি চেয়েছিলেন ওঁর সঙ্গে আমাদের আগামী ছবির একটি আগাম ট্রেলারও জুড়ে দিতে। যেহেতু আমরা তখনও স্ক্রিপ্ট লিখছিলাম, তাই আমরা মাথায় আসা একটা আইডিয়া থেকেই চটজলদি ট্রেলারটা বানিয়ে ফেলি— যেখানে দেখানো হয় মুন্না আর সার্কিট আমেরিকা যাচ্ছে। আর সেখানে যাওয়ার জন্য ওরা ভাঙা ভাঙা ইংরেজি শিখছে।”

হিরানি অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেন, “আমরা ট্রেলার তো রিলিজ করে দিয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে ওই সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা গল্পটা আমরা কোনওদিনই মনমতো শেষ করতে পারিনি!"