কন্নড় বিনোদন জগৎ এই মুহূর্তে এক গভীর শোকের ছায়ায় ডুবে রয়েছে। কন্নড় টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় তরুন অভিনেতা বৈশাখের  আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। আর এই গভীর শোকের আবহের মাঝেই এক চরম বিতর্ক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল।

কন্নড় অভিনেত্রী কৃষি তাপন্ডার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বৈশাখের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত যুবক নামি অভিনেত্রীর পরিচিত ছিলেন এবং বুধবার রাতে তিনি তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিলেন। তবে ওই সময় অভিনেত্রী বাড়িতে ছিলেন না। তিনি কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুর বাইরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই অ্যাপার্টমেন্টের কর্মীরাই বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

এরপর প্রয়াত অভিনেতাকে শেষবার দেখার জন্য ওঁর বাসভবনে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হল কৃষি থাপান্ডাকে। বৈশাখের শেষকৃত্যের আগে ওঁর মরদেহ ছুঁয়ে দেখা তো দূর, ওঁর ঘরে ঢুকতেই বাধা দেওয়া হল অভিনেত্রীকে! আর তারপরেই ঘরের বাইরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

অভিনেতা বৈশাখের মৃত্যুর পর ওঁর পরিবার এবং কিছু ঘনিষ্ঠ মানুষের এই রহস্যজনক ও কঠোর আচরণ টিনসেল টাউনে এক বিরাট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন একজন সহকর্মীকে ওঁর শেষযাত্রায় শামিল হতে দেওয়া হলো না, ওঁর পেছনের আসল ঘটনা এবার সামনে এল। খবর, অভিনেতা বৈশাখের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ওঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে এবং ওঁর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ওঁর বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী কৃষি থাপান্ডা। কিন্তু ওঁর সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৈশাখের পরিবারের একাংশ এবং উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি কৃষিকে ঘরের ভেতর ঢুকতে এবং বৈশাখের মরদেহ দেখতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এই চরম অপমানের পর বৈশাখের বাড়ির বাইরে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভে ও যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষি। কাঁদতে কাঁদতে  তিনি বলেন, “আমরা কত বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি, ও আমার কত ভাল বন্ধু ছিল! ওঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়াটা আমি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না। কিন্তু ওঁর শেষ সময়ে ওঁর মুখটা আমাকে একবারের জন্যও দেখতে দেওয়া হলো না। কেন আমার সঙ্গে এমনটা করা হল? আমি শুধু ওঁর শেষযাত্রায় পাশে একটু দাঁড়াতে চেয়েছিলাম!”

কৃষি থাপান্ডাকে বৈশাখের মরদেহের কাছে যেতে না দেওয়ার পেছনে ওঁর পরিবারের কোনও পুরনো ক্ষোভ না কি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কোনও ব্যক্তিগত সমীকরণ দায়ী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর ফিসফাস শুরু হয়েছে দক্ষিণী ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কৃষিকে যখন আটকানো হচ্ছিল, তখন ওঁর সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তির তীব্র বাদানুবাদও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও অশান্তি না বাড়িয়ে চোখের জল মুছতে মুছতেই সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন কন্নড় বিগ বস খ্যাত এই অভিনেত্রী।

অভিনেতা বৈশাখের এই অকালমৃত্যু কন্নড় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক বিরাট ধাক্কা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঁর অসংখ্য সহকর্মী ও ভক্তরা শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন। কিন্তু ওঁর শেষকৃত্যের দিনে ওঁরই এক প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গেঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘটনাটি পুরো পরিবেশকে আরও বেশি বিতর্কিত করে তুলেছে।