২৯ মার্চ তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে। সেটার জন্য ৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় টলিউডের শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানরা। একই সঙ্গে এদিন বৈঠক ডাকা হয়েছিল ফেডারেশন, ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম, প্রযোজক এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের নিয়ে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
এদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরূপ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, রঞ্জিত মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ টলিউডের চেনা মুখেরা। সেখানেই তাঁরা ঘোষণা করেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টলিউড থেকে ব্যানড ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে আর কোনও শিল্পী, টেকনিশিয়ানরা কাজ করবেন না।
তবে এদিনের বৈঠকে কোনও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আসেনি। প্রযোজকরা এসেছিলেন। হাজির ছিল ইম্পার সদস্যরা। তাঁদের সামনে যে আলোচনা হয়েছে তাতে নিরাপত্তার জন্য যে যে দাবি তোলা হয়েছে তার ৮০ শতাংশ বিষয়ে সকলের সম্মতি আছে। বাকি ২০ শতাংশ নিয়ে টেকনিক্যাল সমস্যা আছে, যা দ্রুত কাটানোর চেষ্টা করা হবে। আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এসওপি তৈরি হবে। একই সঙ্গে ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের তরফে যে ইন্স্যুরেন্সের কথা বলা হয়েছে সেটাও করা হবে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এদিন মিটিং শেষে বলেন, "ফেডারেশন, ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম, প্রযোজক... সবার মধ্যে একটা লেখাপড়া হবে। ব্যাক টু ব্যাক মিটিং হয়েছে। টিভি প্রযোজকদের সঙ্গে আজ বৈঠক হয়েছে, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল না।" তিনি এদিন এও জানান, "যে ছেলেটা চলে গেছে সে এক করে দিয়ে গিয়েছে আমাদের সবাইকে।"
কী কী ঠিক হল আজকের বৈঠকে? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান টিভি এবং সিনেমার জন্য আলাদা আলাদা ইন্স্যুরেন্স হবে। এছাড়া ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও প্রতিষ্ঠান ব্যানড। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওই প্রযোজনা সংস্থার কারও সঙ্গে কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না। যতক্ষণ না প্রকাশ্যে বা কোর্ট থেকে জানতে পারি আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে আমাদের ছেড়ে গেল, কেন চলে ততক্ষণ নয়। আমাদের কারও সঙ্গে লড়াই নেই, ঝগড়া নেই। আমাদের এই পুরো পরিবার ঠিক করেছে পরিবারের (ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স) সঙ্গে কাজ করবে না, যারা আমাদের ঘরের ছেলেকে শেষ করে দিল। প্রকাশ্যে বলতে হবে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল। সেটা প্রিয়াঙ্কাকে বলতে হবে যে সে মানল। ৯ দিন হয়ে গেল এখনও বলেনি কী ঘটেছিল।"
ফলে আগামীতে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের ভবিষ্যৎ কী হয় সেটাই দেখার। ব্যান ওঠে না পাকাপাকি ভাবে নিষিদ্ধ হয় লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রযোজনা সংস্থা সেদিকে নজর থাকবে। একই সঙ্গে এসওপির ভবিষ্যৎ কী হয়, কবে হয় সেটাও নজরে থাকবে। তবে আপাতত জটিলতার কাটিয়ে ৮ এপ্রিল থেকে চেনা ছন্দে ফিরছে টলিউড। কর্মবিরতি উঠে শুরু হচ্ছে কাজ।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স প্রযোজিত ধারাবাহিক 'ভোলে বাবা পার করেগা' -এর শুটিংয়ে তালসারিতে গিয়েছিল টিম। সেখানেই শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর পর একদিকে যেমন শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তেমনই উক্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করে। একই সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তাদের যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটার জবাব যথাযথ ছিল না। রাহুলের শেষকৃত্যে দেখা যায়নি প্রযোজনা সংস্থার কাউকে। বরং উল্টে রাহুলের মৃত্যুর সপ্তাহ ঘোরার আগে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের তৃতীয় সিজনের শুট শুরু করে দেওয়া হয় নতুন কাস্ট নিয়ে। এরপরই সকলেই বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ হন প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ৫ জনের নামে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এবং তালসারিতে অভিযোগ জানানো হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।
এরপর ৬ এপ্রিল সোমবার ৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। বলা হয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত না হলে কাজ হবে না। মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্তব্ধ ছিল টলিপাড়া। যদিও এদিন ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম, ইম্পা টিভি প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছিল। সেখানে হাজির ছিল গোটা টলিউড। সেখানেই উপোরক্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
















