দক্ষিণী তারকা রাম চরণের ‘পেড্ডি’ সিনেমার মাধ্যমে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ডেবিউ করছেন টলিউড অভিনেতা রজতাভ দত্ত। ট্রেলারে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এমনিতেও বাংলা সিনেমায় তাঁর দাপুটে অভিনয় বারবার দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ক্রুর খলনায়ক হোক কিংবা দমফাটা মজাদার কোনও চরিত্র - যে কোনও ভূমিকায়  সমান পারদর্শীতার সঙ্গে পর্দায় নিজের চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে জুড়ি মেলা ভার তাঁর। বাংলার গন্ডি টপকিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় হিন্দি ছবি ও ওয়েব সিরিজে তাঁর অভিনয় ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে সমালোচকমহলে। জনতামহলে তো বটেই। এবার তিনি পা বাড়িয়েছেন দক্ষিণী ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে। রামচরণের মতো দক্ষিণী তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন 'পেড্ডি' ছবিতে। রামচরণের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তো বটেই, পাশাপাশি দক্ষিণী ছবির ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়েও আজকাল ডট ইন-এর কাছে মুখ খুললেন রজতাভ। 


 'পেড্ডি'তে অন্য ধরনের রজতাভ দত্ত-কে দর্শক আবিষ্কার করবে কি না এই প্রশ্নে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাঁর সটান জবাব, "দেখুন, অন্য ধরনের চরিত্র বলতে কী বোঝায় তা আমি বুঝি না। কারণ এত বছর ধরে যে যে ধরনের কাজ করেছি, তা একদিকে যেমন একে অন্যের থেকে আলাদা আবার অন্যদিকে সেই সব চরিত্রের মধ্যে আমার তো একটা সিগনেচার থাকবেই। যেকোনও অভিনেতার ক্ষেত্রেই সম্ভবত এই কথাটি প্রযোজ্য। এই কথাটি আমাকে আমার থিয়েটারের শিক্ষক সলিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “একটি ছোট্ট লেখার পিস্ পড়ে বলে দিতে পারব সেটি রবীন্দ্রনাথ না শরৎচন্দ্র লেখা, একটি আঁকা দেখে আমি বলে দিতে পারব সেটি অবন ঠাকুরের আঁকা না নন্দলাল বসু-র। অর্থাৎ তাঁদের সিগনেচার মার্ক রয়েছে তাঁদের সৃষ্টির মধ্যে। ঠিক তেমনই, একজন অভিনেতার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় দেখে কি প্রতিবার মনে হতে পারে একটা অপরের থেকে আলাদা? কখনও সম্ভব? সেই শিল্পীর তো একটা সিগনেচার থাকবেই অভিনয়ে। বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা  জনি ডেপের কথা অনুযায়ী –‘একজন অভিনেতার অভিনীত কোনও চরিত্র প্রাণ পায় না ততক্ষণ, যতক্ষণ না সেই অভিনেতা নিজের কিছু অংশ সেই অভিনীত চরিত্রের মধ্যে সঞ্চারিত না করতে পারে।’  সেই যুক্তিতে ‘পেড্ডি’-র এই চরিত্র আলাদা কিছুটা আবার তার মধ্যে আমার সিগনেচার মার্ক রয়ে গিয়েছে। এবার কতটা আলাদা আমার এই চরিত্রটি সেটা তো দর্শক বলবেন। আর একটা কথা, কোনও চরিত্র ছবির অন্যদের তুলনায় কতটা আলাদা লাগবে তা কিন্তু অনেককিছুর উপর নির্ভরশীল। যেমন -সেই চরিত্রটিকে কীভাবে পেশ করা হচ্ছে পর্দায়, কোন পরিপ্রেক্ষিতে পটভূমিকায় দর্শক তাঁকে দেখতে পাচ্ছে, কতক্ষণ ধরে পর্দায় সে হাজির থাকবে এবং আলোর কারসাজি তো আছেই এসবের সঙ্গে। এটুকু বলতে পারি, ‘পেড্ডি’তে আমার চরিত্রটির স্ক্রিন টাইম অনেকক্ষনের নয়। তবে খুব সুন্দরভাবে তাঁকে রাউন্ড-আপ করা হয়েছে, চরিত্রটিকে যেভাবে এবং যখন দর্শক দেখতে পাবেন তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”

 

টলিপাড়া আর দক্ষিণের বাজেটের আকাশ-পাতাল তফাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ খানিকটা আবেগপ্রবণ ও বাস্তববাদী শোনাল অভিনেতাকে। তিনি বলেন, “আমার অভিনীত একটি দৃশ্য এই ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে তা নিয়ে আফসোস নেই। কারণ  এত বড় মাপের, বাজেটের ছবিতে আমি এর আগে কখনও কাজ করিনি। প্রায় ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা বাজেটের ছবি! এক-একদিনের যা খরচ হয়েছে এই ছবির পিছনে তা দিয়েই আমার দুঃখিনী বাংলার দু'তিনটি ছবির বাজেট হয়ে যায়।”


খানিক থামলেন রজতাভ। তারপর জানালেন দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ এবং অভিনেতাদের প্রতি তাঁদের সম্মান প্রদর্শনের কায়দা দেখে মুগ্ধ তিনি। রজতাভ স্পষ্ট জানান, এই ভাললাগাটা শুধু বিলাসবহুল আতিথেয়তার জন্য নয়, বরং মানসিক সম্মানের জায়গা থেকে – “এই লার্জার দ্যান লাইফ ব্যাপার স্যাপারগুলোর পাশাপাশি কিন্তু শিল্পীদের অত্যন্ত সম্মান দেন তাঁরা।  সেটা কিন্তু একটা খুব বড় প্রাপ্তি। অভিনেতাদের যে কী প্যাম্পার তাঁরা করতে পারেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। তবে তুলোয় মুড়ে রাখেন, এই কথাটি কিন্তু শুধু মেটেরিয়ালিস্টিক দিক থেকে বিচার করে বলছি না। সামান্য ভাল কিছু করতে পারলেই যেভাবে তাঁরা খুশি হন, আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন তা অভাবনীয়। আবার তেলেগু ভাষায় প্রতিটি সংলাপ বলার সময় প্রচণ্ডরকম সাহায্য পেয়েছি।এটা কিন্তু শুধু পরিচালক কিংবা ক্রু-দের পাশাপাশি ছবির তারকাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানে আমার অভিনয় দেখে বাকিরা প্রশংসা করলেন, আবার রাম চরণ এগিয়ে এসেও হাত ধরে প্রশংসা করলেন! এই যে অসম্ভব বিনয়ী ও ভদ্র একজন শিল্পীর আলাদা করে বলা - এটাই তো বড় প্রাপ্তি।”