রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন আকস্মিক এবং 'রহস্যজনক' মৃত্যুতে টলিপাড়া জুড়ে এখন শোকের আবহ। অভিনেতার এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রায় কেউই। তবে এহেন আবহে নেটপাড়ার এক অংশ রাহুলের রাজনৈতিক বিশ্বাস (বামপন্থা) প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মৃত্যুতে রীতিমতো আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে কিছু নেটিজেনকে। এই ‘উল্লাস’ দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। বামপন্থী মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় রাহুলের মৃত্যু নিয়ে যারা উপহাস করছে, তাদের ‘জানোয়ারের অধম’ বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি।
ফেসবুকের পাতায় কুণাল লিখলেন, “রাহুলের অকালমৃত্যুর পর যারা ওঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসকে জড়িয়ে তাকে আক্রমণ করে ফেস বুকে পোস্ট বা কমেন্ট করছে, সেগুলো জানোয়ারের অধম। রাহুল বামপন্থী হতেই পারে। ও কারুর পাকা ধানে মই দিতে যায়নি। ছেলেটি ভালো অভিনেতা, শক্তিশালী লেখক। কিছু কৃমি, কীটের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াটা নোংরা হয়ে যাচ্ছে। একটা ছেলে এভাবে দুর্ঘটনায় মারা গেল, তাকে নিয়ে যারা অসভ্যতা করছে, তাদের জুতিয়ে সিধে করা উচিত। এর থেকে নরম কিছু লেখা গেল না।”

শুধু তাই নয়, আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে কুণাল জানিয়েছেন, রাহুল অভিনয় করেছিলেন তাঁর প্রযোজিত ছবি ‘বালুকাবেলা ডট কম’-এ। এই ছবিতে নায়কের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কুণালের কথায়, "আমার ছবির নায়ক ছিল রাহুল। সেখান থেকেই ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমার ও খুব পছন্দের অভিনেতা ছিল।" উল্লেখ্য, আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুণাল ঘোষ এও জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বায়োপিক যদি কখনও তৈরি হয়, তাহলে রাহুলকেই তিনি তাঁর চরিত্রে দেখতে চান। এই কথা জানতে পেরে রাহুলও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি তুলে ধরে কুণাল ঘোষ বলেন, "এটাই ভাবছিলাম খবরটা পাওয়ার পর থেকে। ব্যস্ততার মাঝে এমন খবরে সমস্ত কাজ যেন থমকে গেল। বিশ্বাস করতে পারছি না রাহুল ছেলেটা আর নেই। ওঁর আত্মীয়দের সমবেদনা জানাই।”
প্রসঙ্গত, ওড়িশা–পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে—শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি! ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অভিনেতার। জানা গিয়েছে, ২৭ মার্চ থেকেই ওই সৈকতে শুটিং চলছিল। তাই রাহুলের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি ঘুরলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার পর অভিনেতাকে দ্রুত দিঘা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তালসারি থেকে প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দূরে। এরপর সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১০ নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে এবং অভিনেতার দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ, সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্ত হবে।
চোখের সামনেই পুরো ঘটনাটা ঘটে রাহুলের ড্রাইভার বাবলুর। রাত পোহালেও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাহুলের সারথী তিনি। আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “শুটিংয়ের সময় নায়িকার হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের শুট ছিল। দাদা তাই-ই করছিলেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন। টেকনিশিয়ানরা সবাই ছুটে যায় উদ্ধার করার জন্য। নায়িকাও পড়ে যান। দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন দাদা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার বলেন রাস্তাতেই নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”
রবিবার রাতে এ খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং ছেড়ে দক্ষিণ কলকাতায় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা সরকার। এরপর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান। প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, “এই সময়টা আমাদের কাছে চরম শোক এবং গভীর হতাশার। দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। একটি শিশু (সহজ), একজন মা এবং গোটা পরিবার এই অপূরণীয় ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করছে।” সংবাদমাধ্যমের কাছেও এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
রাহুলের অকাল প্রয়াণে স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শোকবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “রাহুল আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন অভিনেতা ছিলেন। ওঁর মতো একজন প্রতিভাবান শিল্পীর এভাবে চলে যাওয়া বাংলা বিনোদন জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
বিশিষ্ট, তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি হঠাৎ আর আমাদের মধ্যে নেই, এই খবর পেয়ে আমি হতচকিত, মর্মাহত ও শোকাহত।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)
কী করে যে কী হয়ে গেল, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। সে আমার খুব পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ ছিল।
তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন ও অগণিত অনুরাগীদের…Tweet by @MamataOfficial
&t=2069s














