রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মর্মান্তিক প্রয়াণে যেখানে অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে টলিপাড়া, অভিনেতার মৃত্যুর বিচার দাবিতে এক ছাদের তলায় এসেছে সব পক্ষ। এরই মাঝে এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে উঠেছে হেনস্থার অভিযোগ। অভিযোগের তির উঠেছে বাংলা টেলিভিশন জগতের খ্যাতনামা প্রযোজনা সংস্থা টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে।
বহু বছর ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে সুশান্ত দাসের ধারাবাহিক নিয়ে চর্চা চলে। টিআরপির প্রথম দশে দেখা যায় তাঁর প্রযোজিত মেগা। অভিযোগ করেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এক অভিনেত্রী, সুকন্যা দত্ত গুহ। প্রথমে সমাজমাধ্যমে প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন-এর দ্বারস্থ হয়েছেন সুকন্যা।
আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজকাল ডট ইন-কে প্রযোজক বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখেছি। সুকন্যা আমাদের সঙ্গে ২০১৯ সালে একটি ধারাবাহিকে কাজ করেছিল। এত বছর বাদে এমন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে এসেছে দেখে আমি অবাক হয়ে গেছিলাম।” অভিনেত্রীর মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানানোর প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমি আজ সকালে দেখলাম ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন-এ আমার নামে অভিযোগ করা হয়েছে। আমিও চাইছি আসল বিষয়টি সামনে আসুক। আমিও কমিশনের মাধ্যমেই সমস্ত কিছু সামনে আনব।” বর্তমানে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আজকাল ডট ইন-কে সুকন্যা বলেন, "প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওঁর প্রযোজনায় দীপ জ্বেলে যাই ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, যদি রাজি না হই, তাহলে সিনটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে। তবুও শিল্পের মর্যাদা করেছি, রাজি হইনি। বাদ যায় আমার সিনটা, শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। আর এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।"
সুকন্যা আরও বলেন, "আমার বাবাকে বারবার বলতেন মেয়েকে ভাল সুযোগ করিয়ে দেব। আর আমায় দিনের পর দিন শারীরিক, মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এত বছর মুখ বুঝে ছিলাম। কারণ মফস্বলের মেয়ে আমি, বাবা-মা ভয় পেয়েছিল, যদি আমার কোনও ক্ষতি হয়ে যায়! কিন্তু এখন আমার স্বামী সবটা শুনে মনে জোর দিয়েছে, আমার চার মাসের সন্তানের মুখ চেয়ে আজ প্রতিবাদ করেছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।"
সুকন্যার কথায়, "শুনতে পাচ্ছি, উনি প্রভাব খাটিয়ে আমায় দমিয়ে দিতে চাইছেন। আমার অভিযোগ যদি মিথ্যে হয় তাহলে সেদিন ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে প্রায় ১২ বার আমার বাবাকে কেন ফোন করেছেন? পোস্ট ডিলিট করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। একপ্রকার হুমকি দিয়েছেন আমার বাড়ির লোকদের। আর চুপ করে থাকব না। মহিলা কমিশনের কাছে সমস্ত প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ করেছি। আমার কেরিয়ার পর্যন্ত শেষ করে দিয়েছেন, আর কীসের ভয়?" আপাতত অভিনেত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোটা ঘটনাটি কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।















