২৩ জানুয়ারি বড়পর্দায় এসে পৌঁছেছে ‘বর্ডার ২’। সানি দেওল, বরুণ ধওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অহান শেট্টিকে নিয়ে এই মাল্টি-স্টারার ছবি ১৯৯৭ সালের কাল্ট ক্লাসিক ‘বর্ডার’-এর আত্মিক সিক্যুয়েল। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি এই ছবির সঙ্গে তাঁর আবেগ যে কতটা গভীর, তা আগেই স্পষ্ট করেছিলেন সানি দেওল। বিশেষ করে তাঁর প্রয়াত বাবা, কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে। এবার ছবির মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এল সেই আবেগের এক নীরব অথচ হৃদয়ছোঁয়া শ্রদ্ধার্ঘ্য।

থিয়েটারে প্রথম দিনের শো-তেই দর্শকদের চোখে পড়ে এক ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ডিটেল। টাইটেল ক্রেডিটে সানি দেওলের নাম ভেসে ওঠে এইভাবে - “সানি দেওল (ধর্মেন্দ্রজি কা বেটা )”। বড়পর্দায় বাবার পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরার এই মুহূর্ত অনেক দর্শককেই আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

এর আগে জয়সলমেরে ছবির গান ‘ঘর কবে আসোগে’ (১৯৯৭ সালের ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’-এর রিমেক) লঞ্চ অনুষ্ঠানে বাবাকে ঘিরে নিজের অনুপ্রেরণার কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন সানি। সেখানেই উঠে আসে ধর্মেন্দ্র অভিনীত ১৯৬৪ সালের যুদ্ধচিত্র ‘হকিকত’-এর প্রসঙ্গ। যে ছবি পরোক্ষভাবে তৈরি হওয়ার পথ দেখিয়েছিল মূল ‘বর্ডার’-কে।

অনুষ্ঠানে সানি বলেছিলেন,“আমি ‘বর্ডার’ করেছিলাম কারণ ছোটবেলায় বাবার ছবি ‘হকিকত’ দেখেছিলাম, আর সেটা আমার ভীষণ প্রিয় হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি খুব ছোট। পরে অভিনেতা হওয়ার পর ঠিক করি, বাবার মতো আমিও এমন একটা ছবি করব। জে পি দত্ত সাহেবের সঙ্গে কথা বলি, আর আমরা ঠিক করি, এই বিষয়েই একটা ছবি বানাব, যেটা খুব সুন্দর, আর আপনাদের সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।”

গল্পের দিক থেকেও ‘বর্ডার ২’ প্রথম ছবির উত্তরাধিকার বহন করছে। যেখানে ‘বর্ডার’ দেখিয়েছিল ১৯৭১ সালের লংগেওয়ালা যুদ্ধ, সেখানে সিক্যুয়েলের কেন্দ্রে রয়েছে বাসন্তর যুদ্ধ। ভারত-পাক যুদ্ধের পশ্চিম ফ্রন্টে সংঘটিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। পাঞ্জাব ও জম্মু সেক্টরে এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনার কঠিন কিন্তু ঐতিহাসিক জয়ই ছবির মূল প্রেক্ষাপট।

বক্স অফিসে ছবিটি যে বড়সড় ওপেনিং পেতে চলেছে, সে ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলছে। ভুষণ কুমার, কৃষণ কুমার, জে পি দত্ত ও নিধি দত্ত প্রযোজিত এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মোনা সিং, সোনম বাজওয়া ও অনন্যা সিং।

সব মিলিয়ে, ‘বর্ডার ২’ শুধু যুদ্ধের গল্প নয়, এ এক ছেলের তরফ থেকে বাবার প্রতি নীরব ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার স্মারক। আর সেই আবেগই বড় পর্দায় ছুঁয়ে যাচ্ছে দর্শকের হৃদয়।