২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। আসমুদ্রহিমাচল ভারত কেঁপে উঠেছিল একটি খবরে - দুবাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে নিজের কামরার বাথরুমে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। শোকের ঢেউ ছাপিয়ে যায় দেশ-বিদেশের সিনেমাপ্রেমী মহলকে।

শ্রীদেবীর মৃত্যু শুধু একজন অভিনেত্রীর মৃত্যু ছিল না, সেটি ছিল এক সাংস্কৃতিক প্রতীকের বিদায়। তাঁর পর্দার অদ্ভুত আকর্ষণ আর ব্যক্তিত্বের মাধুর্য প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে এবং নিজের মতো করে জীবন বাঁচতে। শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। ভক্তরা দীর্ঘদিন মেনে নিতে পারেননি এই অপ্রত্যাশিত বিদায়। বাথটাবে তাঁর মৃত্যু সংবাদ যেন গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।আজ, তাঁর প্রয়াণবার্ষিকীতে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, শ্রীদেবী চলে গেলেও তাঁর উপস্থিতি এখনও ভারতীয় সিনেমার ভেতরে বেঁচে আছে।


এহেন আবহে শ্রীদেবী ও তাঁর বড় মেয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করলেন নয়া প্রজন্মের বলি অভিনেতা বিশাল জেঠওয়া। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে পরিচালক নীরজ ঘেওয়ান-এর ছবি ‘হোমবাউন্ড’-এ অভিনয় করে নজর কাড়েন তরুণ অভিনেতা বিশাল জেঠওয়া। তাঁর সংযত অথচ শক্তিশালী পারফরম্যান্স শুধু সমালোচকদের প্রশংসাই কুড়োয়নি, দর্শকদের মধ্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।ছবিটিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাহ্নবী কাপুর এবং ঈশান খট্টর। দেশ-বিদেশে নানা চলচ্চিত্র উৎসবে ঘুরে একাধিক পুরস্কারও জেতে ‘হোমবাউন্ড’। আন্তর্জাতিক স্তরেও ছবিটি আলোচনায় আসে, বিশেষ করে যখন ২০২৬ সালের অস্কারের জন্য শর্টলিস্ট করা হয়।তবে শেষ পর্যন্ত জানুয়ারিতে ঘোষিত চূড়ান্ত মনোনয়নে জায়গা করে নিতে পারেনি ভারতের এই সরকারি এন্ট্রি।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিশাল জানিয়েছেন, অস্কার মনোনয়ন হাতছাড়া হওয়া তাঁর মনে গভীর আক্ষেপ তৈরি করেছিল।তাঁর কথায় জানা যায়, তিনি এই দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছতে পেরে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেও, অপূর্ণ আশা ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে ছুঁয়ে গেছে। এমনকী, তিনি কল্পনা করে রেখেছিলেন, যদি তাঁদের ছবি জিতে যায় তবে কী পোশাক পরবেন, মঞ্চে কী বলবেন, সবই যেন আগেই লিখে ফেলেছিলেন মনে মনে।এই স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছনোর স্বপ্নটা তাঁর কাছে শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিল।


অস্কারের ওই ফলাফলের ঘোষণার পরের মুহূর্তটাও বিশাল মনে রেখেছেন স্পষ্টভাবে। তিনি জানান, ফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ফোনে কল আসে জাহ্নবীর।এর আগে তাঁদের কথোপকথন সবসময়ই ছিল উচ্ছ্বাসে ভরা - নতুন সাফল্য, নতুন উৎসব, নতুন প্রশংসা। কিন্তু সেদিনের আলাপচারিতায় ছিল অন্যরকম নীরবতা। একই সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, তাঁর এবং ঈশানের মধ্যে নিজেদের জীবনে মায়ের গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল।তবে জাহ্নবীর সঙ্গে সেই প্রসঙ্গ তোলেননি ইচ্ছাকৃতভাবেই। কারণ তাঁর মতে, এমন ব্যক্তিগত ক্ষতকে ছুঁয়ে ফেলাও কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে চূড়ান্ত কষ্টকর হতে পারে।


অস্কার মনোনয়ন না পাওয়া অবশ্য ‘হোমবাউন্ড’-এর যাত্রা থামাতে পারেনি। বরং ছবিটি প্রমাণ করেছে, ভারতীয় গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের মন ছুঁতে পারে আর নতুন প্রজন্মের অভিনেতারাও বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে প্রস্তুত। বিশালের কথাতেই যেন তার সারমর্ম -স্বপ্ন ভেঙেছে, কিন্তু পথ এখনও খোলা।

 

&t=313s


অন্যদিকে, সাত ও আটেরদশকে হিন্দি সিনেমা প্রায় পুরোপুরি দখল করেছিল ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর যুগ। সেই সময়েই শ্রীদেবীর উত্থান ছিল এক নীরব বিপ্লব। চোখ ধাঁধানো রূপ, ওরকম লাস্যময়ী চেহারার সঙ্গে শিশুসুলভ নিষ্পাপতা আর তীব্র অভিনয়শক্তির অদ্ভুত মিশেলে শ্রীদেবীতৈরি করেছিলেন নিজস্ব পর্দা-ভাষা। দর্শক শুধু তাঁকে দেখত না, তাঁকে অনুভব করত। শ্রীদেবী ছিলেন সেই বিরল অভিনেত্রীদের একজন, যিনি নিজের নামেই ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারতেন। বক্স অফিস টানার ক্ষমতা তাঁর ছিল এককভাবে।

স্টেরিওটাইপ ভাঙা ছিল তাঁর স্বভাব। চরিত্রের ভেতরে ঢুকে পড়ার দক্ষতা, আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ, আর অনন্য স্ক্রিন প্রেজেন্স -সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একক প্রতিষ্ঠান।