সম্প্রতি শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির ম্যানেজার অর্ঘ্য মুখার্জির বিরুদ্ধ যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই তাঁকে ম্যানেজারের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। অর্ঘ্য যে ইভেন্ট কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন, সেই ট্যালেন্টওয়ালাও এবার তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল।
এদিন ট্যালেন্টওয়ালার তরফে একটি পোস্ট করে জানানো হয় তারা তাদের কোম্পানি থেকে অর্ঘ্যকে বহিষ্কার করেছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, 'ট্যালেন্টওয়ালা জানতে পেরেছে যে তাদের এক প্রাক্তন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি ফৌজদারি মামলার সঙ্গে তিনি যুক্ত, আর সেই কেসের বর্তমানে তদন্ত চলছে। নির্দিষ্ট অথরিটির তরফে অফিসিয়াল তথ্য পাওয়ার পর কোম্পানির তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁকে এই কোম্পানি থেকে এই মুহূর্তে বরখাস্ত করার। তিনি এখন থেকে ট্যালেন্টওয়ালার তরফে কারও প্রতিনিধিত্ব করবেন না।'
তাদের তরফে এও দাবি করা হয়, এই কোম্পানি জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে, তাদের বিশ্বাসভঙ্গ হচ্ছে বা ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এমন কোনও আচরণ তারা বরদাস্ত করবে না। ট্যালেন্টওয়ালার তরফে এদিন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যেহেতু বর্তমানে কেসটি বিচারাধীন এবং তদন্ত চলচেজ সেহেতু তারা এরপর এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করবে না। তাদের বাকি সমস্ত কাজকর্ম নিজের নিয়মে চলবে, এবং সমস্ত দায়দায়িত্ব পালন করবে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
কী ঘটিয়েছেন এই অর্ঘ্য মুখার্জি? একই ইভেন্ট কোম্পানিতে অর্ঘ্য মুখার্জির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিযোগকারী। নির্যাতিতার দাবি ১২ এপ্রিল চ্যাটার্জিহাট এলাকায় অর্ঘ্যর বাড়িতে কাজের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর সঙ্গে এই কাণ্ড ঘটানো হয়। এরপর গত ১২ জুন হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানায় অর্ঘ্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ধর্ষনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। গতকাল রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করে পুলিশ।
অর্ঘ্য গ্রেফতার হওয়ার পরই শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি লেখেন, 'আমার বর্তমান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন অর্ঘ্য মুখার্জি, যার ঠিকানা ১৩ অনন্ত দেব মুখার্জি লেন, শাস্তিতলা, হাওড়া। ২০২৪ সাল থেকে 'ট্যালেন্টওয়ালা' (Talentwala) কোম্পানি আমার সময়সূচি ও ইভেন্টগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিল এবং তাদেরই একজন কর্মী হিসেবে কোম্পানি আমাকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বর্তমানে আমি জানতে পেরেছি যে, তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। যদিও তার ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে আমি জানতাম না, তবুও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমি তাকে আমার ম্যানেজার হিসেবে কাজ থেকে বিরত রাখছি। আমি 'ট্যালেন্টওয়ালা' কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি রেকর্ড করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।'
















