১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। সেই মামলা আজও ভারতের অন্যতম বহুচর্চিত আইনি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বহু বছর পর সেই মামলার অন্যতম সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম ফের মুখ খুলে জানালেন, কেন তিনি সঞ্জয় দত্তের জন্য কঠোর শাস্তির দাবি করেছিলেন।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিকম স্পষ্ট করে বলেন, "আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, সঞ্জয় দত্ত কোনও জঙ্গি নন। ওর মধ্যে একটা শিশুসুলভ বোকামি ছিল। ওর চোখে সেটা স্পষ্ট বোঝা যেত। অস্ত্র নিয়ে ওর কৌতূহল ছিল। সেই সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাকে অনেকে গর্বের বিষয় বলে মনে করত।"

তবে সঞ্জয় দত্তের একটি সিদ্ধান্ত যে ইতিহাস বদলে দিতে পারত, সেই আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি। নিকমের দাবি, আবু সালেম যখন অস্ত্রবোঝাই ট্রাক নিয়ে এসেছিলেন, তখন সঞ্জয় দত্ত কয়েকটি অস্ত্র নিজের কাছে রেখে বাকিগুলো ফেরত দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, "যদি সঞ্জয় দত্ত সেই সময়ই পুলিশকে খবর দিতেন, তাহলে হয়তো ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ ঠেকানো সম্ভব হত। গোটা ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যেত, বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচানো যেত এবং অভিযুক্তদের আগেই গ্রেফতার করা সম্ভব হত। এই কারণেই আমার ওর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। কিন্তু তাই বলে ওকে আমি কখনও জঙ্গি মনে করিনি।"

আদালতে একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ালেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও তিক্ততা নেই বলেও জানান উজ্জ্বল নিকম। তাঁর কথায়, "জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে আমার একাধিকবার দেখা হয়েছে। ও আমাকে যথেষ্ট সম্মান করে। একবার একটি হোটেলে ও নিজে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছিল। কারও বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।"

রায় ঘোষণার দিন আদালতে সঞ্জয় দত্তের মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন নিকম। তাঁর স্মৃতিচারণ, "রায় ঘোষণার পর ও ভীষণ কাঁপছিল। বারবার বলছিল, 'না স্যার, আমি কোনও ভুল করিনি। আমি আবার ফিরে আসব।' ওর শরীর কার্যত কাঁপছিল। আমি ওর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, 'সঞ্জু, সংবাদমাধ্যম দেখছে, সোজা হয়ে দাঁড়াও।' তারপর পুলিশকে বলি ওকে নিয়ে যেতে। ওই মুহূর্তে আমি ওকে সাহস না দিলে, মিডিয়ার চোখে আমিই খলনায়ক হয়ে যেতাম। তখন প্রায় সবাই আমার বিরুদ্ধে ছিল।"

উজ্জ্বল নিকমের এই মন্তব্য ফের আলোচনায় নিয়ে এসেছে ১৯৯৩ সালের সেই বহুচর্চিত মামলাকে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আইনগত দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, এই দুই বিষয়কে তিনি সবসময় আলাদা করে দেখেছেন।