অভিনেতা তথা চিত্রপরিচালক সোহেল খান এই মুহূর্তে বিনোদন দুনিয়ার লাইমলাইটে। আমাজন প্রাইম ভিডিও-র হাই-স্টেকস রিয়্যালিটি শো 'অ্যালায়েন্স'-এ তাঁর পারফরম্যান্স এবং রণকৌশল দর্শকদের বেশ নজর কাড়ছে। চলতি সপ্তাহে তাঁর দল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করায় ভক্তরা যখন তাঁর নাচ আর হুল্লোড় উপভোগ করছেন, ঠিক তখনই শো-এর মঞ্চে নেমে এল এক গভীর স্তব্ধতা। বিনোদন দুনিয়ার এই জনপ্রিয় তারকা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিজের জীবনের এক চরম যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় সকলের সামনে নিয়ে এলেন।
সঞ্চালক কুনাল খেমুর এই শো-তে অন্যান্য প্রতিযোগী আরসলান গোনি, রুহি দোশানি ও আলি গোনির সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় সোহেল জানান, তিনি যে কোনও ধরণের র্যাগিং এবং উৎপীড়নের ঘোর বিরোধী। আর এই প্রতিবাদের মানসিকতা তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের এক মারাত্মক ট্রমা। সোহেল প্রকাশ করেন যে শৈশবে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
নিজের সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে ৫৫ বছর বয়সী তারকা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "ছোটবেলায় আমি একজনের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। সেই ঘটনার পর তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগলেও বছরের পর বছর ধরে আমি কাউকে কিছু জানাইনি, পুরো বিষয়টা নিজের মনের ভেতরেই চেপে রেখেছিলাম। অবশেষে বড় হওয়ার পর, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে আমি আমার বাবা সেলিম খানের মুখোমুখি হই এবং পুরো ঘটনাটি খুলে বলি।"
সোহেল আরও জানান, তাঁর মুখে এই নির্মম সত্য শোনার পর বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খান ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি আক্ষেপের সুরে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি এতগুলো বছর এই ভয়ঙ্কর কষ্টটা নিজের মধ্যে চেপে রাখলে কীভাবে?" বাবার এই প্রশ্নের উত্তরে সোহেল বলেছিলেন, "আমি খুবই দুঃখিত ড্যাডি। কিন্তু তখন ওই কথা কাউকে বলতে আমার ভীষণ লজ্জা লাগছিল। আজ বুঝি, ওই ঘটনায় আমার বিন্দুমাত্র কোনও দোষ ছিল না, কিন্তু তাও এক তীব্র অপরাধবোধ আর অপমানে আমি কুঁকড়ে গিয়েছিলাম।"
নিজের জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সোহেল এখন তাঁর সন্তানদের সচেতনভাবে বড় করছেন। তিনি তাঁর সন্তানদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনে যাই ঘটে যাক না কেন, কোনও পরিস্থিতিতেই যেন তারা ভয় বা লজ্জা পেয়ে চুপ করে না থাকে। যে কোনও সমস্যা বা হেনস্থার কথা যেন তারা সরাসরি বাবাকে এসে জানায়।
রিয়্যালিটি শো 'অ্যালায়েন্স'-এর এই পর্বে সোহেলকে নিজের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে চোখে জল ফেলতেও দেখা যায়। তিনি জানান, এর আগে বহু শো-তে বিচারক বা সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করলেও, প্রতিযোগীদের ওপর কতটা মানসিক চাপ থাকে তা তিনি এই প্রথম নিজে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে বুঝতে পারছেন। তাঁর মতে, ৫৫ বছর বয়সে এসে এই শো তাঁকে জীবন সম্পর্কে নতুন এক শিক্ষা দিল।
প্রসঙ্গত, এই শো-টিতেই সম্প্রতি ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি হিসেবে যোগ দিয়েছেন সোহেলের প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সাজদেব। বিচ্ছেদের পর অন-স্ক্রিন তাঁদের এই পুনর্মিলন এবং দুজনের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে। বিনোদন প্রেমীরা সোহেলের এই অকপট স্বীকারোক্তি এবং কঠিন অতীতকে জয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
















